আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদহ জেলার কালিয়াচকে গত ১লা এপ্রিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে মালদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (আইন-শৃঙ্খলা), শেখ আনসার আহমেদকে কড়া ভাষায় শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। ৪ঠা এপ্রিল ইস্যু করা এই নোটিশে জানানো হয়েছে যে, ১লা এপ্রিল জেলার স্পর্শকাতর পরিস্থিতির কারণে শেখ আনসার আহমেদকে বিশেষভাবে কালিয়াচকে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখেন এবং প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রিপোর্ট করেন।

তদন্তে দেখা গেছে, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত—টানা ৫ ঘণ্টা তিনি কালিয়াচকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক ও মহকুমা শাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। এর অর্থ হল, তিনি মাঠ পর্যায়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। তা সত্ত্বেও, এই দীর্ঘ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে কোনও  তথ্য বা আপডেট দেননি, যা প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করেছে। শোকজ নোটিশে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, একজন সিনিয়র আইএএস অফিসারের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং কর্তব্যে অবহেলা কোনওভাবেই কাম্য নয় এবং এটি নিখিল ভারত পরিষেবা (আচরণ) বিধি, ১৯৬৮-এর ৩(১) ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।

নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে শেখ আনসার আহমেদকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে যে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাঁকে বিশেষ করে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কেন ওই ৫ ঘণ্টা তিনি নিরব ছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি নিজে পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে একতরফা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই শোকজ নোটিশের অনুলিপি ইতিমধ্যে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, মালদহের পুলিশ সুপার এবং জেলা জজকেও অবগত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।