আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের কোড অন ওয়েজেস বা নতুন মজুরি বিধি অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনের লক্ষ্য হল কর্মীদের সময়মত বেতন নিশ্চিত করা এবং বেতন প্রদানে বিলম্ব বা বেআইনি কাটছাঁটের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক বেতনভোগী কর্মীদের পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যেই বেতন দিতে হবে। পাশাপাশি চাকরি ছাড়ার পর চূড়ান্ত পাওনাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।


মাসিক বেতন কবে দিতে হবে?
কোড অন ওয়েজেস অনুযায়ী, যেসব কর্মী মাসিক ভিত্তিতে বেতন পান, তাঁদের বেতন পরবর্তী মাসের সপ্তম দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ, জুলাই মাসের বেতন সর্বোচ্চ ৭ আগস্টের মধ্যে কর্মীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে হবে।


অন্যদিকে, সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কাজ করা কর্মীদের বেতন সংশ্লিষ্ট সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের আগেই দিতে হবে। যারা পাক্ষিক ভিত্তিতে বেতন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে পাক্ষিক সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যে বেতন দিতে হবে। দৈনিক মজুরির কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মজুরি পরিশোধ করতে হবে।


চাকরি ছাড়লে কত দিনের মধ্যে পাওনা মেটাতে হবে?
নতুন শ্রম আইনে কর্মীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। কোনও কর্মী যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হন, অপসারিত হন বা ছাঁটাইয়ের শিকার হন, তাহলে নিয়োগকর্তাকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর সমস্ত বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।


বেতন দিতে দেরি হলে কী করবেন?
যদি কোনও নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে বেতন না দেন বা কর্মীর সম্মতি ছাড়া বেআইনি ভাবে বেতন থেকে টাকা কেটে নেন, তাহলে কর্মী আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন। এই আইনের অধীনে ইনস্পেক্টর-কাম-ফ্যাসিলিটেটর নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে, যারা শ্রম আইন কার্যকর হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবেন।


ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করার জন্য তিন বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যদি কর্মীর পক্ষে রায় দেয় এবং নিয়োগকর্তা সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন, তাহলে সরকারের মাধ্যমে বকেয়া অর্থ ভূমি রাজস্ব বকেয়ার মতো আদায় করা যেতে পারে।


আগের আইনের তুলনায় কী পরিবর্তন?
এই নতুন কোড কার্যকর হওয়ার ফলে Payment of Wages Act, 1936-সহ একাধিক পুরনো মজুরি সংক্রান্ত আইন একত্রিত হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট বেতনসীমার মধ্যে থাকা কর্মীরাই সময়মতো বেতন পাওয়ার আইনি সুরক্ষা পেতেন। কিন্তু Code on Wages, 2019 অনুযায়ী এখন বেতনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সব কর্মীই এই আইনের আওতায় সমান সুরক্ষা পাবেন।


এছাড়া নিয়োগকর্তাদের বেতন দেওয়ার সময় কর্মীদের ফিজিক্যাল বা ইলেকট্রনিক ওয়েজ স্লিপ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেতন থেকে কত টাকা কাটা যাবে, তারও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন শ্রম আইনের এই বিধানগুলি কার্যকর হলে কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সময়মত বেতন না পাওয়ার সমস্যাও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।