আজকাল ওয়েবডেস্ক:  টানা ১৩ মাস ধরে বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহের পর প্রথমবারের মতো ধাক্কা খেল গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড ।  মে মাসে গোল্ড ইটিএফ থেকে মোট ৭২৫ কোটি টাকার নিট অর্থ বেরিয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক বিনিয়োগের পর এই প্রথম রিডেম্পশন বা অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনা সামনে এসেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।


তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতাকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। তাঁদের মতে, এটি মূলত প্রফিট বুকিং-এর ফল। গত কয়েক মাসে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সাময়িকভাবে গোল্ড ইটিএফ থেকে অর্থ বেরিয়ে গেলেও সোনার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এখনও অটুট রয়েছে।


চলতি বছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদার কারণে সোনার দাম একাধিকবার নতুন রেকর্ড গড়েছে। সেই মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেওয়ায় মে মাসে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে যখন কোনও সম্পদের দাম দ্রুত বাড়ে, তখন কিছু বিনিয়োগকারী লাভ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগের একটি অংশ বিক্রি করেন। একে প্রফিট বুকিং বলা হয়। এটি বাজারের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সবসময় নেতিবাচক সংকেত বহন করে না। তাই এক মাসের তথ্য দেখে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলা উচিত নয়।


অন্যদিকে, সিলভার ইটিএফেও মে মাসে ধারাবাহিকভাবে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বজায় রয়েছে। যদিও রুপোর দামেও গত কয়েক মাসে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল, তবুও বিনিয়োগকারীদের একাংশ সেখানে লাভ তুলে নিচ্ছেন। ফলে মূল্যবান ধাতু-ভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডগুলিতে স্বল্পমেয়াদে চাপ তৈরি হয়েছে।


বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নিয়ে গোল্ড ইটিএফ বা গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের শুধুমাত্র এক মাসের বহিঃপ্রবাহ দেখে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের বিনিয়োগের লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সম্পদ বণ্টনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সোনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ 'সেফ-হ্যাভেন' অ্যাসেট, অর্থাৎ বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এটি অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি পোর্টফোলিওতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা রাখা এখনও অনেক আর্থিক উপদেষ্টার সুপারিশের মধ্যেই রয়েছে।

 


সব মিলিয়ে, মে মাসে গোল্ড ইটিএফ থেকে ৭২৫ কোটি টাকার বহিঃপ্রবাহ অবশ্যই নজরকাড়া ঘটনা। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আপাতত আতঙ্কের নয়, বরং সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক প্রফিট বুকিংয়ের প্রতিফলন। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আবেগের পরিবর্তে তথ্য, লক্ষ্য এবং সঠিক সম্পদ বণ্টনের কৌশলকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।