আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের পিএফ স্কিম ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বেতনভোগী কর্মীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নতুন নিয়মের ফলে কি এবার নিয়োগকর্তারা কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে আগের তুলনায় কম টাকা জমা দেবেন? বিশেষ করে যেসব সংস্থা কর্মীদের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে বেশি পিএফ রাখত, তাদের নীতি কি বদলে যাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আশঙ্কার তেমন কোনও কারণ নেই। নতুন স্কিম মূলত নিয়োগকর্তার আইনি বাধ্যবাধকতা কোথায় শেষ হয় এবং স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত অবদান কোথা থেকে শুরু হয়, সেটাই স্পষ্ট করেছে। অর্থাৎ, নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক পিএফ কমায়নি।
২৯ জুন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই স্কিম ১৯৫২ সালের পুরনো স্কিমের পরিবর্তে কার্যকর হয়েছে। এটি কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ২০২০ অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হল প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিষেবাকে আরও ডিজিটাল, সহজ এবং স্বচ্ছ করা। অনলাইন ক্লেম, ই-পাসবুক, ইলেকট্রনিক ফাইলিং এবং ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে, যাতে চাকরি পরিবর্তন করলেও পিএফ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সহজ হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পিএফের অবদানের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। কর্মী এবং নিয়োগকর্তা—উভয়কেই আগের মতোই বেতনের ১২ শতাংশ করে পিএফে জমা দিতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের মতোই ১০ শতাংশ অবদানের নিয়ম কার্যকর থাকবে।
তবে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আইনি বেতনসীমা ১৫,০০০ টাকার বেশি অংশের জন্য কর্মী যদি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত পিএফ জমা দেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থের সমপরিমাণ টাকা জমা দিতে নিয়োগকর্তা আইনত বাধ্য নন।
এই বিষয়টি সামনে আসার পর অনেক কর্মীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সংস্থাগুলি এখন থেকে অতিরিক্ত পিএফ বন্ধ করে দেবে? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হল—অবশ্যই নয়।
অনেক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীদের সম্পূর্ণ বেসিক বেতনের ওপর পিএফ দিয়ে আসছে। নতুন পিএফ স্কিম তাদের সেই সুবিধা বন্ধ করতে বলেনি। বরং শুধু স্পষ্ট করেছে যে এটি কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী নীতি, আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
অর্থাৎ, কোনও সংস্থার নিয়োগপত্র, বেতন কাঠামো বা অভ্যন্তরীণ নীতিতে যদি বেশি পিএফ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকে, তাহলে তারা আগের মতোই সেই সুবিধা চালিয়ে যেতে পারে। নতুন নিয়ম সেই সুযোগে কোনও বাধা সৃষ্টি করেনি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাঁরা আইনি সীমার চেয়ে বেশি পিএফ জমা দেন, তাঁরা নিজেদের এইচআর বিভাগ বা কোম্পানির পিএফ নীতি সম্পর্কে একবার খোঁজ নিয়ে নিন। কারণ প্রতিটি সংস্থার বেতন কাঠামো ও পিএফ নীতি আলাদা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন স্কিম কর্মীদের বাধ্যতামূলক পিএফ সুবিধা কমায়নি। বরং নতুন নিয়মে শুধু এটুকু স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইনি ন্যূনতম সীমার বাইরে নিয়োগকর্তার অতিরিক্ত পিএফ সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির নীতি ও কর্মসংস্থানের শর্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই বর্তমান কর্মীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পিএফ নীতি সম্পর্কে সচেতন থাকা অবশ্যই জরুরি।















