বিভাস ভট্টাচার্য: অন্য দলের সাহায্য দরকার নেই। এরাজ্যে কংগ্রেস একাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে যথেষ্ট। এই মুহূর্তে তারা একাই চলতে চায়। সোমবার রাজ্যে আগত কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেনুগোপাল-কে তাদের মনোভাব জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। এদিন বিধান ভবনে রাজ্যে দলের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি'র সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন বেনুগোপাল। সেখানেই দলের মনোভাব প্রসঙ্গে একথা তাঁকে জানিয়ে দেন রাজ্যে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। 

সম্প্রতি রাজ্যে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশ্ন উঠেছিল এরাজ্যে কংগ্রেস কি বামেদের সঙ্গে মিলিতভাবে ভোটে লড়বে না একলা চলোর সিদ্ধান্ত নেবে? কিন্তু শেষপর্যন্ত রাজ্য কংগ্রেসের তরফে তাদের সর্বভারতীয় নেতৃত্বকে জানানো হয় তারা এই নির্বাচনে একাই লড়াই করার পাশাপাশি সমস্ত আসনেই প্রার্থী দিতে চায়। নির্বাচনের পর দেখা যায় আসন ক্ষরা কেটে কংগ্রেস মুর্শিদাবাদ থেকে দুটি আসনে জয়লাভ করেছে। যা একলা লড়াই করার জন্যই সম্ভব হয়েছে বলে রাজ্য কংগ্রেসের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের অভিমত। এর আগে শেষবারের মতো ২০০৬ সালে কংগ্রেস এরাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। পাশাপাশি ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস এককভাবেই লড়াই করেছিল। অন্যদিকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করেছিল। 

এবিষয়ে রাজ্য কংগ্রেসের এক নেতা জানান, "সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে চলেছে কংগ্রেস। এরাজ্যেও আমরা সেই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তার জন্য আমাদের বাম, তৃণমূল, আইএসএফ বা হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র হাত ধরার কোনও প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস যে একক লড়াই করে আসন ছিনিয়ে আনতে পারে সেটা সদ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকালে বোঝা যায়। সেটা হয়ত এই মুহূর্তে ২, কিন্তু লড়াই চালিয়ে যেতে পারলে এই আসনের সংখ্যাই কিন্তু ২০০ হতে পারে।" এর পাশাপাশি ওই নেতা জানিয়েছেন, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে এবং নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে রাজ্য কংগ্রেস এককভাবেই লড়াই করবে। 

সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্য কংগ্রেসের এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও চুপ ছিলেন। বরং তিনি আশ্বস্ত করে রাজ্য কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, দিল্লির সমর্থন আরও বাড়ানো হবে। যেই সহযোগিতাগুলি ভোটের সময় করা হয় সেগুলি যাতে সারাবছর দেওয়া যায় সেই বিষয়গুলি তিনি দেখবেন। 

এর পাশাপাশি এদিন ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও আলোচনা হয়। ওই অনুষ্ঠানে যাতে কেসি বেনুগোপাল নিজে ছাড়াও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেমন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে বা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মতো নেতা বা নেত্রীদের কেউ উপস্থিত থাকেন সেই অনুরোধও রাজ্য কংগ্রেসের তরফে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে করা হয়। এদিন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে কেসি বেনুগোপাল রাজ্যে জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মঙ্গলবার মৌলালি যুব কেন্দ্রে তিনি মিলিত হবেন রাজ্যে এবারের নির্বাচনে দলের হয়ে লড়াই করা সমস্ত প্রার্থীদের সঙ্গে।