আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার দুপুর ১২টায় পেশ হয়েছে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। নতুন সরকারের তরফে বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট প্রস্তাবে পূর্ব ঘোষণা মতো শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যে বাংলাকে শিক্ষার পীঠস্থান হিসাবে গড়ে তুলতে একটি কৌশলী রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বাজেটে।

 

২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকীকরণ, কর্মী ঘাটতি পূরণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং পড়ুয়াকেন্দ্রীক দৃষ্টিভঙ্গীর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের অর্থপুষ্ট পিএমশ্রী প্রকল্পের বাস্তবায়িত করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ের মান ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি নির্ভরতার মাধ্যমে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা হবে। সে জন্য সরকারি তরফে ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

স্বপন জানান, রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়কেই মডেল বা আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠানগুলিই নিকটবর্তী বিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষার উদ্ভাবন ও সামগ্রিক উন্নতিতে সাহায্য করবে। পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতাতেই এই মডেল প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরীক্ষানির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি, স্মার্ট ক্লাসরুম গড়ে তোলা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, বহু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা এবং পড়ুয়াদের সার্বিক মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে কাজ করবে। মূলত, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্যই এই মডেল স্কুল গড়ে তোলার কাজ হবে।

 

এ ছাড়া, হাতেকলমে শিক্ষার প্রসারের জন্যও উদ্যোগী হবে রাজ্য। সরকারের তরফে হাতেকলমে শিক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে উৎসাহিত করার জন্য মোট ১,০০০টি স্কুলে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব গড়ে তোলা হবে। যার জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই গবেষণাগারে পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি, রোবোটিক্স, কোডিং ক্লাসের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, নানা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে। পড়ুয়াদের জন্য প্রোটোটাইপ তৈরি, বাস্তবে স্টেম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স)-প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বাস্তবে উদ্ভাবন ও শিল্পদ্যোগী মনোভাব গড়ে তুলতে পারে, সে জন্যও উৎসাহিত করা হবে।