আজকাল ওয়েবডেস্ক:  এবার সাংসদ শতাব্দী রায়কে লক্ষ্য করেও ছোঁড়া হল ডিম। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়িতে। যদিও তিনি গাড়ির ভিতরে থাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সিউড়িতে তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে বেশ কয়েকজন যুবক এই কাজ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।


নির্ধারিত সূচি মেনেই বীরভূম জেলা প্রশাসন ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিশা বৈঠক। বৈঠকে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তবে বৈঠকের শুরু থেকেই উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন ভবনের বাইরে কিছু মানুষের জমায়েত হয় এবং তাঁদের অনেকের হাতেই কাঁচা ডিম ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরিস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ভিড় সরিয়ে দেয় এবং প্রশাসন ভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করে।


বৈঠক শেষ হওয়ার পর শতাব্দী রায়ের গাড়ি দ্রুত প্রশাসন ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। অভিযোগ, জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের কাছে একটি স্কুটারে থাকা কয়েকজন যুবক তাঁর গাড়ির পিছু নিয়ে কাঁচা ডিম ছোড়ে। যদিও ডিম গাড়িতে লাগলেও সাংসদ গাড়ির ভিতরে নিরাপদে ছিলেন এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


এদিনের দিশা বৈঠক রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ, বৈঠকে তৃণমূল বা বিজেপি— কোনও দলেরই একজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। প্রশাসনের দাবি, বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় বিধায়কেরা বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। যদিও প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বক্তব্য ও প্রস্তাব বৈঠকে তুলে ধরা হয়। তবে রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

সূত্রের দাবি, জনরোষের আশঙ্কায় তৃণমূলের বিধায়কদের একাংশ বৈঠক এড়িয়ে যান। অন্যদিকে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের সঙ্গে একমঞ্চে বসতে অনীহা এবং সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা এড়াতেই বিজেপির বিধায়কদের একাংশ অনুপস্থিত ছিলেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।


বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শতাব্দী রায় বলেন, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল রাজনৈতিক কাজে দিল্লিতে রয়েছেন। অন্য বিধায়কেরা কেন আসেননি, তা তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি ওঁদের পরিবারের সদস্যদের পিএ নাকি?


অন্যদিকে বৈঠকে জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা ও নিকাশি-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় জিরামজি প্রকল্প। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭৩টিতে অন্তত একটি করে কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার কারণে পুকুর খননের মতো একাধিক কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিরামজি প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তবে উন্নয়নমূলক আলোচনা বা বিধায়কদের অনুপস্থিতির চেয়ে এদিনের বৈঠক শেষে শতাব্দী রায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাই এখন বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

&t=1s