আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্জেন্টিনা পাড়ায় এখন ভিড় মেসির দাদার বাড়িতে। বিশ্ব মঞ্চে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের এই সাফল্যের আনন্দই যেন উৎসবের চেহারা নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগণার ইছাপুরের নবাবগঞ্জে। স্থানীয়দের কাছে এই জায়গাটা এখন ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’ নামেই পরিচিত। কারণ এখানেই বাস করেন চা-ব্যবসায়ী শিবশংকর(শিবে) পাত্র, যিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘মেসির দাদা’ হিসেবেই। আর তাঁর মেসি-ভক্তি আজ গোটা এলাকাকেই রূপ দিয়েছে এক টুকরো আর্জেন্টিনায়।


নবাবগঞ্জের গঙ্গাপাড়ের সরু গলিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল আর্জেন্টিনার পতাকা। কিছুটা এগোলেই দেখা যায় নীল-সাদা রঙে সাজানো একটি দোতলা বাড়ি। বাড়ির সামনে রয়েছে লিওনেল মেসির আবক্ষ মূর্তি। প্রথম দর্শনেই মনে হতে পারে যেন আর্জেন্টিনার কোনও ফুটবলপ্রেমীর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে সেই ধারণা আরও দৃঢ় হয়। ঘরের দেওয়াল, সিঁড়ি, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, এমনকি পাখাও রাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নীল-সাদা রঙে। বাড়ির নিচতলায় রয়েছে ‘আর্জেন্টিনা’ নামে একটি চায়ের দোকান, সেই দোকানই  চালান মেসির দাদা এই শিবে পাত্র। 

 

দোকানের চারদিকে মেসির ছবি, পোস্টার ও স্মারকে সাজানো পরিবেশ ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। বিশ্বকাপে মেসির হ্যাটট্রিকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ এই ‘মিনি আর্জেন্টিনা’ দেখতেই ভিড় করছেন। বাড়ির মালিক শিবে পাত্র ও তাঁর পরিবারও দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চা বানাতে বানাতেই তাঁর মুখে শোনা যায় ফুটবল, আর্জেন্টিনা ও ‘ভাই মেসি’র গল্প। তবে শুধু সমর্থন নয়, মেসির প্রতি তাঁর আবেগের আরেকটি বড় প্রমাণ কলকাতায় ফুটবল তারকার সফরের সময় তাঁর সঙ্গে মেসির সাক্ষাৎ।

সেই স্মৃতি এখনও গর্বের সঙ্গে সকলকে শোনান শিবে। তাঁর দাবি, সাক্ষাতের সময় তিনি মেসির পিঠ চাপড়ে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন। সামনেই মেসির জন্মদিন, বড় জয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সব উপলক্ষেই নবাবগঞ্জের এই আর্জেন্টিনা পাড়ায় চলে বিশেষ উদযাপন। শিবে পাত্রের স্ত্রী স্বপ্না পাত্র এবং মেয়ে নেহাও পরিবারের এই ফুটবল-উন্মাদনার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। ২৪ জুন লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে এবারও বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে নবাবগঞ্জে। 

 

মেসির সাম্প্রতিক হ্যাটট্রিকের আনন্দও সেদিন উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিবে পাত্র। বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই এখানকার বাসিন্দাদের একটাই প্রার্থনা আবারও যেন বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি ওঠে তাঁদের প্রিয় লিওনেল মেসির হাতেই।