আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন নির্যাতিতা তরুণীর মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি করে মেয়ের নৃশংস খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাইপো বলে দাবি করেন তিনি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় ফের সামনে আসল একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ। 


মামলার তদন্ত নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হতেই নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে সরব হলেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াতেই ছিল অসংখ্য অসঙ্গতি, যা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখা উচিত, তা দেখতেই এদিন পানিহাটি শ্মশানে এসেছিল তদন্তকারীরা বলে মনে করেন তিনি। 
রত্না দেবনাথের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে মেয়ের দেহ দেখতে না পেয়ে তিনি ও তাঁর স্বামী টালা থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয় বলে দাবি। সেই সময়ে তাঁদের মেয়ের দেহ বাড়ির সামনে বেওয়ারিশ লাশের মতো পড়ে ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জির উপস্থিতিতে তৎকালীন ডিসি নর্থ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন। পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ডি সি নর্থ চলে যান। এরপর সঞ্জীব মুখার্জি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ। শ্ম
শানে পৌঁছে আরও একাধিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, যে স্থানে তাঁর মেয়ের দেহ রাখা হয়েছিল, সেখানে সাধারণত মৃতদেহ রাখা হয় না। পাশাপাশি পোস্টমর্টেম হওয়া দেহ দাহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 


তাঁর অভিযোগ, পরিবারের কোনও সদস্য দাহকার্যের অনুমতি দেননি। তাহলে কার অনুমতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সেদিনের সমস্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তৃণমূলের কয়েকজন নেতা। 


রত্না দেবনাথ জানান, মা হওয়ার সুবাদেই তিনি শুধু মুখাগ্নি করতে পেরেছিলেন। তবে তাঁদের যাওয়ার আগেই অধিকাংশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এদিকে আদালতের নির্দেশে ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে দাহকার্য পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার পুনর্তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার রাতে যাঁরা তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত অপরাধীরা এখনও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এখনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত তদন্তে সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে বলেই আশাবাদী নির্যাতিতার পরিবার। 


এরপরই ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে সংঘটিত একটি অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভাঙচুরের নির্দেশ এবং প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়ে তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে বলে দাবি তাঁর। 

 


সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগটি সামনে আসে বক্তব্যের শেষ পর্বে। রত্না দেবনাথ দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাই কার্তিক ব্যানার্জির ছেলে আবেশ ব্যানার্জি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি। তাঁর দাবি, তদন্তের অগ্রগতিই ঠিক প্রকৃত সত্য সামনে আনবে। তবে নির্যাতিতা তরুনীর মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ এর এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে আবারও চর্চায় উঠে এসেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহ তার পরিবার ও তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা।