দীক্ষা ভুঁইয়া: রাজ্যের নিট-এ সফল প্রথম ১০০ জন কৃতী পড়ুয়াকে সংবর্ধনা জানিয়ে তাঁদের আগামী দিনের চিকিৎসক হিসেবে দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী পড়ুয়া, তাঁদের অভিভাবক এবং শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নিট একটি অত্যন্ত কঠিন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন এই কৃতী ছাত্রছাত্রীরা।" তাঁদের অধ্যবসায়, প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’ মন্ত্র অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার সরকারি ও বেসরকারি- দুই ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নে রাজ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যেই রাজ্য 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে এমবিবিএস আসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে চারটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, কল্যাণীর এইমসের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গে আরও একটি এইমস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক মানের ২,০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে তুলতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ১,০০০টি শয্যা আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানান তিনি।

রাজ্যের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকদের আবাসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, এমআরআই, স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, এসএনসিইউ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এসএসকেএম হাসপাতালে আইসিইউ ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথাও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে কৃতী পড়ুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা যেন ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গ- উভয়ের প্রতিই সমান দায়বদ্ধ থাকেন। শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষের কাছেও উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে আগামী দিনের চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, চিকিৎসকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. হরেকৃষ্ণ বেরা ও সুমনা সরকার, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য সচিব-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।