মিল্টন সেন: শুধুমাত্র একটা পাকা ঘরের প্রত্যাশা ছিল। সেই স্বপ্নেই কাটছিল দিন। তবে স্বপ্নপূরণ হওয়ার আগেই সব শেষ। পাকা ঘরে আর থাকা হল না। ইটের দেওয়াল উঠছিল ঘরে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাটির ঘরে চাপা পড়ে মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের। ঘটনাটি মগরার গজঘন্টা মালিক পাড়ার। ইতিমধ্যেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মগরার দুর্ঘটনায় মৃত মৃত গৌড় মালিক। বয়স ৫৬ বছর। তাঁর মেয়ে মাম মালিক বয়স ১২ বছর। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাত দু'টো নাগাদ হঠাৎ করে প্রচন্ড জোরে আওয়াজ শুনতে পান তাঁরা। বেরিয়ে এসে দেখেন ওই মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। এর পর তাঁরাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেন মগরা থানাতেও।

 

জানা গিয়েছে, গৌর মালিক সবজির ব্যবসা করতেন। কিশোরী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন একাই থাকতেন ওই মাটির ঘরে। সম্প্রতি মগরা দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তাঁর নামে আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ করা হয়েছিল। যোজনার পুরো টাকা মেলেনি। তাই কাজ শেষ করে উঠতে পারেননি গৌর মালিক। মাটির ঘরেই বসবাস করছিলেন। সেই ঘরই চাপা পড়ে মৃত্যু হল বাবা মেয়ের।

 

 

এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন,গত কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টিতে মাটির গোড়া আলগা হয়ে গিয়েছিল। তাই ওই ঘর ভেঙে পড়ে। তাঁর আক্ষেপ, পাকা ঘরে আর থাকা হল না গৌড়ের। আগের সরকারের আমলে ঘর বরাদ্দ হলেও পুরো টাকা দিতে গড়িমসি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ছ'মাস আগে একটা কিস্তির টাকা হাতে পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়েও পাকা ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন গৌর।