মিল্টন সেন: "কথায় কথায় অন্য হাসপাতালে রোগী রেফার করা আর চলবে না।" বৃহস্পতিবার হুগলির চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে আচমকা হাজির হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এভাবেই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।

এদিন কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই সোজা হাসপাতালে পৌঁছে যান মন্ত্রী। গোটা হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখার পাশাপাশি খতিয়ে দেখেন ওপিডি (আউটডোর) ও রান্নাঘরের খাবার তৈরির ব্যবস্থা। কথা বলেন চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের সঙ্গেও। পরিষেবা কেমন মিলছে, কোথাও কোনও খামতি রয়েছে কি না- সে সব বিষয়ে নিজেই খোঁজখবর নেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটি নিয়ে তাঁর কাছে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। বিশেষ করে আউটডোরে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং চিকিৎসকদের একাংশের অনীহা নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। 

তিনি স্পষ্ট জানান, রোগীদের যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। কেউ যেন পরিষেবা না পেয়ে ফিরে না যান, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি, গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ এবং রাজ্যের ডাক্তাররা যাতে বাইরে চলে না যান, সেদিকেও সরকার নজর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার অমিতাভ মণ্ডল। তিনি স্বীকার করে নেন, চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে কাজের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। সুপার জানান, রোগী স্থানান্তরের (রেফার) নির্দিষ্ট নিয়ম নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হবে এবং এই ধরনের পরিদর্শন কর্মীদের আরও সতর্ক থাকতে সাহায্য করবে।

ছবি: পার্থ রাহা।