আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরকে নতুন রূপ দিতে একগুচ্ছ নাগরিক পরিষেবার কথা ঘোষণা করলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে শহরের আধুনিকীকরণ - একাধিক বিষয়ে এক ঝাঁক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

নাগরিকদের যেকোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানে একটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হলো -১৮০০৩৪৫০৯৩৮। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের মাঝেই সাড়ম্বরে পালিত হবে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস'। এর পাশাপাশি, আগামী রবিবার পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসও। রাজ্যকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় আলপনা ও পেন্টিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

শহরে জল জমার সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, ১৫ বছর আগের সরকার কোনও কাজ না করায় আজ সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ভাসছে। মাটির তলার পুরনো পাইপ পরিবর্তন না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে সাময়িক স্বস্তি দিতে তৎপর প্রশাসন। বর্তমানে জমা জল নামাতে ৩৯টি নিজস্ব এবং ৩৪টি ভাড়া করা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও ৫০টি পাম্প আনা হবে।

বিদেশের বড় শহরগুলির মতো কলকাতাতেও এবার বসছে আধুনিক ডিজিটাল হোর্ডিং। প্রাথমিকভাব পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোড- এই তিনটি রাস্তাকে আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

পার্ক স্ট্রিটের উড স্ট্রিট ক্রসিং এবং বর্ধমান মার্কেটের সামনে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল হোর্ডিং বসানো হয়েছে।

শনি ও রবিবার এই হোর্ডিংগুলিতে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি দেখানো হবে। এ ছাড়া রবিবার যোগ দিবসের অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করা হবে এখানে।

শহরের সমস্ত বাস স্ট্যান্ডকে সোলার অপারেটেড এবং ডিজিটাল করা হবে। সেখানে থাকবে মোবাইল চার্জিং ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা।

শহর পরিষ্কার রাখতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কড়া নিয়ম চালু হচ্ছে।

রাস্তায় নোংরা বা আবর্জনা ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা।

যেখানে-সেখানে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা।

রাস্তায় প্রস্রাব করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

একই সঙ্গে সমস্ত দোকানদারদের নিজেদের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় শহরকে সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত করার ডাক দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে কোনও বাজারে প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে বাজারে থাকবে 'ভেন্ডিং মেশিন', যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ নেওয়া যাবে। 

মাছ বা মাংস বহনের জন্য বিশেষ প্রযুক্তির মাল্টিপারপাস ব্যাগ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিষিদ্ধ হচ্ছে প্লাস্টিকের গ্লাসও। যে সমস্ত কারখানায় এখনও বেআইনি প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে, তাদের নোটিশ পাঠানো হবে। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বার্তা- রাজ্যকে যতক্ষণ না সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, সবুজ ও সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে, ততক্ষণ 'সোনার বাংলা' গড়ে তোলা সম্ভব নয়।