আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিষেক ব্যানার্জি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হয়ের পর, ডায়মন্ড হারবারকে মডেল বানাতে চেয়েছিলেন। সেই মডেল তৃণমূলের হারের পর একেবারে তছনছ। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ অভিষেক ঘনিষ্ঠদের নামে। অভিযোগ খোদ অভিষেকের নামেও। এবার অভিযোগ মাছ ধরার নৌকো ও জাল নিয়েও দুর্নীতি নিয়ে। অভিযোগ, ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধ্বংসলীলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও গৃহহারা মানুষদের জন্য আসা কোটি কোটি টাকার ত্রাণ নিয়েও দুর্নীতি করেছেন তৃণমূল নেতারা।
সূত্রের খবর, ওই নির্দিষ্ট সময়ে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত ফলতা ব্লকে মৎস্যজীবী ত্রাণে ২.৬৮ কোটি টাকা এবং গৃহনির্মাণ ত্রাণে ৪৪.৭০ কোটি টাকা, মোট প্রায় ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ভুয়া উপভোক্তা, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ও সম্ভাব্য আত্মসাতের।
সরকারি নথি অনুসারে, ফলতা ব্লকে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত ১০,০০০টি মাছ ধরার জাল বিতরণের নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। অথচ একই নথিতে ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার সংখ্যা মাত্র ৮০টি! আর এই অবিশ্বাস্য অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক ব্যানার্জির প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী অভিযোগকারী অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।
তিনি বলেন, 'একজন মাঝি কতগুলি মাছ ধরার জন্য জাল ব্যবহার করেন? আর মাত্র ৮০টি নৌকা থাকলে ১০ হাজার জাল কোথায় গেল? এটা স্পষ্ট জালিয়াতি ও দুর্নীতি। এ নিয়ে কোনওরকম কোনও দ্বন্দ্ব নেই।'
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভুয়ো উপভোক্তা তৈরি, মিথ্যা ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট এবং যাচাই ছাড়াই টাকা বিলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, গৃহনির্মাণ ত্রাণে ৩৯,০৪১ জনের নামে ৪৪.৭০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উপভোক্তা ডাটাবেস খতিয়ে দেখা গেছে একই পরিবারের একাধিক সদস্য, একই মোবাইল নম্বরে একাধিক এন্ট্রি এবং সন্দেহজনক ডুপ্লিকেট নাম। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের না দেখিয়ে ‘রেকমেন্ডেড বাই’ কলামে অভিষেকের নাম উঠে এসেছে।
বিজেপি নেতার অভিযোগের তীর, অভিষেক ব্যানার্জি, ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর কুমার নস্কর, জাহাঙ্গীর খান, ফলতার বিডিও-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিজিৎ দাসের আরও দাবি: “সমস্ত উপভোক্তা তালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যাচাই রিপোর্ট ও ডাটাবেস ফরেনসিক অডিট করে অবিলম্বে FIR রুজু করা হোক এবং অপরাধমূলক তদন্ত শুরু হোক। আমফানে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছে, যাদের জীবিকা নষ্ট হয়েছে, তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে কিছু মানুষ নিজেদের পকেট ভরেছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার নামে মস্করা চলতেই থাকবে।”
















