আজকাল ওয়েবডেস্ক: পণের দাবিতে চলত অত্যাচার। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বধূ। মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। চুঁচুড়া আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে দশ বছরের কারাদণ্ড হল স্বামীর।
জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিহারের মধুবনী জেলার রাজনগর তুলশিপাটির বাসিন্দা নজরানা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল মুজফফরপুর গাইঘাটের মহম্মদ রাজার সঙ্গে। কাজের সন্ধানে বিয়ের পর রাজা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হুগলির পান্ডুয়ায় চলে আসেন। সেখানে বোসপাড়ায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে।
কিন্তু স্বামী–স্ত্রীর বনিবনা ছিল না। অভিযোগ, বিয়ের সময় কোনও পণের দাবি না করলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণের দাবিতে স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে শুরু করে রাজা। অভিযোগ, মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত বছর জুন মাসের ২৭ তারিখে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে নাজরানা। পান্ডুয়া থানা থেকে খবর পেয়ে বধূর পরিবারের লোকজন বিহার থেকে আসেন। পান্ডুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযুক্ত রাজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী দেয়। তার মধ্যে অন্যতম গৃহবধূর বাবা মহম্মদ আলেক। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সাক্ষী দিয়েছিলেন। সেই মামলায় অভিযুক্ত মহম্মদ রাজাকে দোষী সাব্যস্ত করে চুঁচুড়া আদালতের ফার্স্ট ট্রাক কোর্টের বিচারক পীযূষ কান্তি রায়। মঙ্গলবার দোষীকে দশ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের সাজা শোনায় আদালত।
সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলি বলেন, এই মামলায় সবচেয়ে কঠিন ছিল মেয়ের পরিবারকে আদালতে নিয়ে আসা। তাদের সাক্ষী ছিল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মেয়েটির উপর যে অত্যাচার হত সেটা তার পরিবারই জানত। মেয়েটির পরিবারের চারজন সাক্ষী দেয় চুঁচুড়া আদালতে এসে। আদালত ৪৯৮/এ ৩০৪ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে।
