মিল্টন সেন
‘হাসপাতালে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। রোগী ছেড়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে আর ব্যস্ত থাকা যাবে না। রেফার রোগও বন্ধ করতে হবে।’ মানুষের সুবিধার্থে পরিষেবার সঙ্গে কোনও আপস নয়।
সোমবার এভাবেই চন্দননগর হাসপাতালে এসে কড়া ভাষায় হুশিয়ারি দিলেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তিনি স্পষ্ট জানান, হাসপাতালের দুর্দশা এবং কর্মীদের দুর্নীতি সম্পর্কে সব খবরই তাঁর কাছে এসেছে।
এই বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করবেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক করা। পাশাপাশি, পরিষেবা যাতে আরও উন্নত হয়, সেটা গুরুত্ব সহকারে দেখা। এদিন চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে একটি উচ্চপর্যয়ের বৈঠক করেন বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ।
উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল সুপার, মহকুমাশাসক রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য সকলেই। ছিলেন চিকিৎসক এবং বর্তমানে যারা চন্দননগর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ দেখভালের দায়িত্ত্ব রয়েছেন সকলেই।
মেডিসিন বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ, ব্লাড ব্যাঙ্ক, ব্লাড গ্রুপ বিভাগ, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিইউ এবং সিসিইউ আর কর্মীরা। এছাড়াও ছিলেন, পিডব্লিউডি বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক এবং দমকল বিভাগের আধিকারিকরা।
দীর্ঘ বৈঠক শেষে বিধায়ক বলেন, ‘বৈঠকে হাসপাতালের চরম দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। মেল ওয়ার্ড, শিশু বিভাগ, হাসপাতালের সুরক্ষা থেকে ব্লাড ব্যাঙ্ক সর্বত্রই গাফিলতি রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টাফ নেই। হাসপাতালের যাবতীয় পরিষেবা ভেঙে পড়েছে।’
এই অবস্থা থেকে কীভাবে হাসপাতালকে পুনরুদ্ধার করা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিধায়ক। জানা গিয়েছে, চন্দননগরের মহকুমা শাসকও মূলত যাবতীয় বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করেছেন।
শিশু বিভাগে এই মুহূর্তে ঠান্ডা জলের যন্ত্র বিকল। এসি চলছে না, ডাক্তারদের বসার ঘরেও এসি খারাপ। এমনকী, মেডিসিন বিভাগেও একাধিক সমস্যার কথা বলে বিধায়ক।
দীপাঞ্জন এদিন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, হাসপাতালে ডিউটিতে এসে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করা যাবে না।
মেডিক্যাল স্টাফ এবং চিকিৎসকেরা এদিনের বৈঠকে তাঁর কাছে অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন দীপাঞ্জন। দীপাঞ্জন জানান, পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত জরুরী বিষয়গুলিকে গুরুত্ব সহকারে প্রাধান্য দিতে হবে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবার এই রিভিউ মিটিং হবে। বিধায়ক বলেন, সাধারণ মানুষের নূন্যতম দুটি চাহিদা। পুলিশ প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা। যেটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হবে।
ইতিমধ্যেই চন্দননগর হাসপাতাল নিয়ে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। ভবিষ্যতে যেনও আর এমনটা না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।
ছবি: পার্থ রাহা
















