আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য৷ এদিকে তদন্তভার হাতে নেওয়ার পরেই চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার দুপুরে দোলতলার দোহাড়িয়ায় যায় সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দল।
অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেখা গিয়েছে তাঁদের হাতে। এই মামলা সংক্রান্ত ফাইল তাঁরা হেফাজতে নিতে পারেন বলে খবর। সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী দল কোন পথে এগিয়েছে এবং তাঁরা কী কী পেয়েছেন, সে সম্পর্কে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সিবিআই গোয়েন্দাদের কথা হতে পারে। এ দিন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে সিবিআই।
প্রসঙ্গত, চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন ভাড়াটে শার্প শ্যুটারকে। খুনের পর থেকেই ফেরার ছিল এই আততায়ীরা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘাতকদের পালানোর পথে ব্যবহার করা গাড়ির 'ফাসট্যাগ' (FASTag) ট্র্যাক করেই তাদের হদিশ পায় পুলিশ। মূলত টোল প্লাজাগুলোতে গাড়ির যাতায়াতের সময় ও লোকেশন থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় অপরাধীদের গতিপথ।
সেই সূত্র ধরেই হানা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে এই তিনজনকে জালে তোলা হয়। এই গ্রেপ্তারির ফলে চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে থাকা আসল মোটিভ এবং আর কে বা কারা জড়িত, তা দ্রুত সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গেছে, রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) রবিবার উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের দুটি জায়গা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে।
তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশ এখনও সরকারিভাবে কোনও বয়ান দেয়নি। বিহার-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের বক্সার থেকে ময়াঙ্ক শর্মা, ভিকি সিং এবং রাজবীর সিং-সহ আরও দু'জনকে আটক করা হয়।
তিনি নিজাম প্যালেস থেকে ফিরছিলেন- যেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর অফিস ছিল। ঘটনাস্থলেই রথের মৃত্যু হয়, আর তাঁর এসইউভি-র চালক বুদ্ধদেব বেরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুনের রাতে হামলাকারীরা প্রায় সাত কিলোমিটার ধরে চন্দ্রনাথের গাড়িটি তাড়া করেছিল।
যে নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ক্ষিপ্রতার সাথে এই হামলা চালানো হয়েছে, তাতে পুলিশের সন্দেহ ছিল যে এর পেছনে ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্পশুটারদের হাত রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সিট-এর সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশায় পাড়ি দিয়েছিলেন।















