মাসিক পেনশনের উপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন বহু প্রবীণ নাগরিক। এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম-এর আওতায় বর্তমানে ৮২ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী রয়েছেন। তাঁদের পেনশন যাতে কোনও কারণে বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য লাইফ সার্টিফিকেট বা জীবন প্রমাণ সময়মতো জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
2
13
তবে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট শেষ তারিখ মেনে চলার প্রয়োজন নেই। একজন ইপিএফ পেনশনভোগীর ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নতুন করে লাইফ সার্টিফিকেট জমা না দিলে পরবর্তী পেমেন্ট সাইকেল থেকে পেনশন আটকে যেতে পারে।
3
13
অবশ্য পরে বৈধ লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সেটি প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে পেনশন ফের চালু হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, যে সময়ের জন্য পেনশন আটকে ছিল, সেই বকেয়া অর্থও পরে পাওয়ার সুযোগ থাকে।
4
13
আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পেনশনভোগীরা এখন ব্যাঙ্ক বা পেনশন অফিসে না গিয়েও বাড়িতে বসে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন বৈধ আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বর, প্রয়োজনীয় পেনশন সংক্রান্ত তথ্য, রেকর্ডে আধার নম্বর নথিভুক্ত থাকা।
5
13
ধাপ ১: প্রয়োজনীয় অ্যাপ ডাউনলোড করুন
একটি উপযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে জীবন প্রমাণ এবং আধার ফেস আরডি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। ফোনে সামনের ক্যামেরা এবং সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ থাকা প্রয়োজন।
6
13
ধাপ ২: জীবন প্রমাণ অ্যাপ খুলুন
অ্যাপটি খুলে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে, যাতে ক্যামেরা-সহ প্রয়োজনীয় ফিচার ব্যবহার করা যায়।
7
13
ধাপ ৩: অপারেটর অথেনটিকেশন করুন
আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ওটিপি মাধ্যমে যাচাই সম্পূর্ণ করতে হবে। পেনশনভোগী নিজে প্রক্রিয়াটি করতে না পারলে পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত ব্যক্তি অপারেটর হিসেবে সাহায্য করতে পারেন।
8
13
ধাপ ৪: পেনশনের তথ্য ও ফেস অথেনটিকেশন পেনশনভোগীর মুখের ছবি স্মার্টফোনের সামনের ক্যামেরায় তুলতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পেনশন তথ্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পিপিও নম্বর নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় পিপিও নম্বর না থাকলে নতুন পিপিও যোগ করার বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।
9
13
ধাপ ৫: ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি
সমস্ত তথ্য দেওয়ার পর আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে। যাচাই সফল হলে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি হবে এবং একটি প্রমাণ আইডি দেওয়া হবে।
10
13
ধাপ ৬: কনফারমেশন সংরক্ষণ করুন
নিজের মোবাইল নম্বরে এসএমএস মাধ্যমে প্রমাণ আইডি এবং ডিএলসি লিঙ্ক পাঠানো হবে। নির্বাচিত পেনশন এজেন্সির কাছেও ইলেকট্রনিকভাবে ডিএলসি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণত আলাদা করে অফিসে গিয়ে কাগজের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
11
13
পিপিও নম্বর, আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বর পেনশন এজেন্সির রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। তথ্যের অমিল থাকলে ডিএলসি প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে। একইসঙ্গে আগের লাইফ সার্টিফিকেটের স্ট্যাটাস যাচাই না করে বারবার নতুন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া উচিত নয়। প্রমাণ আইডি অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখুন।
12
13
স্মার্টফোন ব্যবহার করতে সমস্যা হলে অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে গিয়েও লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিষেবার মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস অথেনটিকেশন এবং কিছু ক্ষেত্রে ডোরস্টেপ ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।
13
13
তাই ইপিএস ৯৫ পেনশনভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—লাইফ সার্টিফিকেটের ১২ মাসের বৈধতা শেষ হওয়ার আগেই তা নবীকরণ করা। সময়মতো জীবন প্রমাণ জমা রাখলে পেনশন পেমেন্টে অপ্রয়োজনীয় বাধার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।