আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন মঙ্গলবার বগটুই গণহত্যা মামার সঙ্গে যুক্ত ঘোষিত পলাতক অভিযুক্ত রোহান শেখ ওরফে কিসমত শেখকে কলকাতার মির্জা গালিব রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।


সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিল এবং তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ার কোনও পর্যায়েই সে অংশগ্রহণ করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের ২৫ মার্চ ২০২২ তারিখের নির্দেশ অনুসারে সিবিআই ২৫ মার্চ ২০২২-এই মামলাটি রুজু করে। এর আগে রামপুরহাট থানার ২২ মার্চ ২০২২ তারিখের এফআইআর নং ১৬৯/২০২২-এর তদন্তভার সিবিআই গ্রহণ করে। ওই ঘটনাই পরবর্তীতে বগটুই গণহত্যা মামলা হিসেবে পরিচিত হয়, যেখানে ১০ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।


তদন্ত শেষে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিবিআই এই মামলায় মূল চার্জশিট এবং তিনটি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। মোট ২৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে রোহান শেখ ওরফে কিসমত শেখও রয়েছে।


তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করে বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছিল। সেই কারণে রামপুরহাটের সংশ্লিষ্ট আদালত ৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে তাকে ‘প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’ হিসেবে ঘোষণা করে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে ২৪ জুন অর্থাৎ বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হবে বলে সিবিআই জানিয়েছে।

২০২২ সালের ২১ মার্চ রাতে রামপুরহাট থানার অন্তর্গত ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান ভাদু শেখকে। অভিযোগ, ওই খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাদু শেখের অনুগামীরা বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই ঘটনায় এক শিশুকন্যা-সহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।


প্রথমে রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিটের কাছ থেকে তদন্তভার নিয়ে নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলায় তৎকালীন রামপুরহাট ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনারুল হোসেন-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট জমা দেয়।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত লালন শেখকে ঘটনার প্রায় ন’মাস পরে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তবে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর সিবিআই হেফাজতে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।


সিটের তদন্তে প্রথমে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে সেই তালিকায় আরও তিন জনের নাম যুক্ত করা হয়। এই তদন্তে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেই মামলাটি স্থানান্তরের আবেদন করেছিল সিবিআই।