আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তাল দীঘা। জারি সতর্কতা। টানা প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে দীঘা সমুদ্রে পর্যটকদের জলে নামার ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে জারি হওয়া হলুদ সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়ায় সমুদ্রে স্নান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে দীঘায় এখনও বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ভিড় থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে।
দুপুরের দিকে বহু পর্যটক সমুদ্রে নামার চেষ্টা করলে নুলিয়া ও পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে তুলে দেয়। সমুদ্রতট জুড়ে অতিরিক্ত নুলিয়া, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্মী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। দীঘা কোস্টাল থানা ও দীঘা থানার পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং হ্যান্ড মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করছে।
একই ধরনের নজরদারি চালানো হচ্ছে মন্দারমণি ও তাজপুর সমুদ্রসৈকতেও।
প্রথম রথযাত্রার দিন থেকে প্রতিটি জোয়ারে কমবেশি জলোচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রে নামা নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক পর্যটক মেরিন ড্রাইভে উঠে আসা ঢেউয়ের জলে ভিজে আনন্দ উপভোগ করছেন। তবে প্রশাসন বারবার সতর্ক করে জানাচ্ছে, উত্তাল সমুদ্রে নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
অন্যদিকে, আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাই প্রায় ২০০০ ট্রলার দীঘা মোহনা ও শংকরপুর মোহনা, পেটুয়া শৌলাতে নোঙ্গর গেড়েছে।
দীঘা মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক স্বদেশ নায়ক জানান, কয়েকদিনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বহু ট্রলার গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে শুক্রবার আবহাওয়া অনুকূলে এলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে রওনা দিতে পারেন মৎস্যজীবীরা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২ তারিখে 'মা কালী' নামে একটি মাছধরা ট্রলার ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সমুদ্রে ডুবে যায়। সেই দুর্ঘটনায় অধিকাংশ মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয় এবং এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে ইতিমধ্যেই সরকারি আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়েছে।
দীঘা মৎস্যজীবী সংগঠনের সভাপতি প্রণব কর জানান, রামনগরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্ঘটনাগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার গ্রহণ করেছে। তাছাড়াও ওই সকল মৎস্যজীবীদের পরিবারে উপযুক্ত কোন সদস্য থাকলে তাকে সিভিক ভলেন্টিয়ার ও হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এছাড়াও দীঘাসহ পূর্ব মেদিনীপুরের সমগ্র উপকূল এলাকায় পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ নজরদারি দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন, আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন সমুদ্রে নামার চেষ্টা না করেন এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলেন।
















