আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দলবদলের হিড়িকে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। তৃণমূল নেতাদের 'পরোক্ষভাবে' বিজেপিতে যোগদান নিয়ে এ বার তাঁদের তীব্র কটাক্ষ করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মঙ্গলবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

এদিন অধীরবাবু বলেন, “একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে, 'বাঙালি কাঙ্গালী হ্যায়' (বাঙালি কাঙালি)। সেই প্রবাদটিকেই সত্য প্রমাণ করলেন তৃণমূলের নেতারা। শুধুমাত্র পদের জন্য, ধান্দার জন্য নিজেদের সবকিছু বেচে দিয়ে এরা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করছেন।” দলত্যাগী নেতাদের ‘ধান্দাবাজ’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।

প্রসঙ্গত, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ জন এনসিপিআই নামে এক নাম না জানা রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। নতুন দলে যোগ দিয়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা ঘোষণা করে দিয়েছেন লোকসভায় তাঁরা সকলে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দাবি তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দেবেন। 


এর পাশাপাশি তৃণমূলের বিধানসভার পরিষদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জিকে তাঁদের নেতা নির্বাচিত করে পৃথক 'ব্লক' তৈরি করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। তৃণমূলের নতুন ব্লকে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬৫ হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের এই দলত্যাগকেই আজ কটাক্ষ করেন অধীর।  

 

শুধু দলত্যাগই নয়, তৃণমূলের প্রতীক কোন 'ব্লকের' দিকে থাকবে তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন কংগ্রেস নেতা। অধীর চৌধুরীর কথায়, “দিল্লিতে এখন সার্কাস চলছে। এটা তৃণমূলের সার্কাস। এই সার্কাসে জোকার আছে, ট্রাপিজের লোক আছে,ধান্দাবাজ লোক আছে।” এই প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাই মন খুলে তৃণমূলের এই সার্কাস দেখে নিন।”

 

এর পাশাপাশি অধীর চৌধুরী আজ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "এক সময় যে ঘটনাকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বলে চালানো হচ্ছিল সেটা দেখে এখন 'সংগঠিত ঘটনা' বলে মনে হচ্ছে। তবে এই ছ্যাবলামো এবার বন্ধ হওয়া দরকার। কেউ অপরাধ করে থাকলে আইন আদালত আছে, সেখানে তাঁর বিচার হবে।"
 
অধীরবাবু বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে গিয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা সরকার চালাতে মন দিক।  অনেক হল ডিম ছোঁড়া, এবার এসব বন্ধ হওয়া উচিত। নতুন সরকারের আমলে বাংলার উন্নতি হোক, ভাল হোক মানুষের, ঘরে ঘরে আর্থিক সুযোগ পৌঁছে যাক, পেট্রোল- ডিজেলের দাম কমুক আমরা এসবই চাই। ডিম ছোঁড়া আর কত দেখব?"