আজকাল ওয়েবডেস্ক: "তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ।" রবিবার বহরমপুরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দাবী করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ তিনি দাবী করেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতার আসার পর যে কায়দায় তারা কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়েছিল, সেই একইভাবে এখন বিজেপি তৃণমূলের মধ্যে ভাঙন ধরাচ্ছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন," রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় গুলি-বারুদ, বন্দুক উদ্ধার হচ্ছে তা কখনওই কাম্য নয়। তবে আমরা সব সময়ই বলে এসেছি সব সরকারই সমান। আমাদের কথাই এখন সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। মানুষ দেখতে পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুই সরকারই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।"
তিনি বলেন,"রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কংগ্রেস দলে ভাঙন ধরানোর জন্য আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে 'পানি কেস' (পড়ুন মাদক মামলা) দেওয়া হতো। যাতে আমাদের নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করে। এখন বিজেপি ক্ষমতায় এসে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে তৃণমূল দলে ভাঙন ধরাচ্ছে ।"
এর পাশাপাশি অধীরবাবু আজ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে প্রকাশ্য রাস্তায় কোমরের দড়ি বেঁধে বা হাতকড়া পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "রাজ্যে কোনওরকম অরাজকতাই কাম্য নয়। কেউ যদি আইন ভেঙে থাকে তাহলে কোর্টে তার বিচার হবে। কোনও ব্যক্তির কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘোরানোর মধ্যে বাহাদুরীর কিছু নেই। এর মধ্যে দিয়ে এক ধরনের নিষ্ঠুর প্রতিহিংসার মানসিকতা প্রকাশ হয়।"
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস এগুলো করেছিল বলেই মানুষ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পরে এগুলো আমাদের কেন দেখতে হবে? এগুলো বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না।"
সরাসরি বিজেপি সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নতুন এক ধরনের 'স্টাইল' নিয়ে চলছে। তারা মারছে না, ছুট করাচ্ছে বেশি। আমাদের ধারণা তারা তৃণমূলের সমস্ত নেতাদেরকে ধরবে না। কিছু নেতাকে ধরে বাকিদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এইভাবেই তাঁদের বিজেপি দলে যোগদান করানো হবে। আমরা সকলেই জানি তৃণমূল কংগ্রেস একটা চোরের দল। তারা চুরি করেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার এসে 'সিলেক্টিভ' চোরদেরকে ধরছে।"
এর পাশাপাশি অধীরবাবু আজ তৃণমূল কংগ্রেসকে আদর্শহীন দল বলেও অভিহিত করেন। দলের সাংগঠনিক বৈঠকে কুনাল ঘোষের সঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জির কথা কাটাকাটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস একটি আদর্শহীন দল। তাই দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব হবেই।"
এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে সীমান্ত অঞ্চলে তৈরি হওয়া জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটের সময় একটা লোক দেখানো ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। আমি জানতে চাই, পশ্চিমবঙ্গের কত বাংলাদেশি ধরা পড়েছে এবং কতজনকে 'হোল্ডিং সেন্টার'গুলোতে রাখা হয়েছে? আমাদের সরকার যে ঘটনাকে বাংলাদেশে 'পুশব্যাক' বলছে, বাংলাদেশি সরকার তাকে 'পুশইন' বলছে। আমরা চাই প্রকৃত নিয়ম মেনে অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হোক। না হলে প্রচুর মানুষকে 'নো ম্যান্সল্যান্ডে' গিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।"
















