আজকাল ওয়েবডেস্ক: পোষ্যদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মায়ার গল্প আমরা প্রায়শই শুনি, কিন্তু জলপাইগুড়ির সুপর্ণা দেবী যা করলেন, তা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। নিজের ঘরের সবচেয়ে ছোট এবং আদরের বিড়াল ‘দিকু’র আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন জলপাইগুড়ির সর্বশিক্ষা মিশনের কর্মী তথা পশুপ্রেমী সুপর্ণা। কিন্তু শোক বুকে চেপে তিনি দিকুকে বিদায় জানালেন তাঁর নিজের পরিবারের একজন সদস্যের মতোই। সনাতন রীতি মেনে বাড়িতে আয়োজন করলেন দিকুর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, যেখানে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিড়ালটির আত্মার শান্তি কামনা করা হল।

শ্রাদ্ধানুষ্ঠান মানেই নিয়মমাফিক ভুড়িভোজের আয়োজন, আর দিকুর ক্ষেত্রেও তার কোনও  ব্যতিক্রম হয়নি। সুপর্ণা দেবী তাঁর আদরের পোষ্যের পরলৌকিক ক্রিয়ায় এমন এক মেনুর ব্যবস্থা করেছিলেন, যা ছিল পুরোপুরি দিকুর পছন্দের খাবারে সাজানো। সাদা ভাত, মাছের মাথা দিয়ে চটপটা বাঁধাকপির ঘণ্ট, বাটা মাছের ঝাল, রুই মাছের কালিয়া থেকে শুরু করে শেষপাতে টমেটো ও কুলের চাটনি—কী ছিল না সেই তালিকায়! শুধু তাই নয়, মিষ্টিমুখের জন্য দুই রকমের মিষ্টির পাশাপাশি রাখা হয়েছিল গঙ্গারামপুরের বিখ্যাত দই। সবচেয়ে মিষ্টি ব্যাপার হলো, এই ভোজের আসরে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দিকুর সমগোত্রীয় অন্যান্য বন্ধুদেরও।

আসলে সুপর্ণা দেবীর কাছে দিকু কেবল একটা সাধারণ বিড়াল ছিল না, ছিল তাঁর সন্তানের মতো। তাঁর বাড়িতে ‘বুলেট’, ‘রকেট’ এবং ‘জুলজুল জামাই’ নামের আরও তিনটি বিড়াল রয়েছে। দিকুর মৃত্যুর পর সুপর্ণা দেবী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, পরিবারের কেউ চলে গেলে আমরা যেভাবে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য কাজ করি, দিকুর জন্যও ঠিক সেটাই করা হয়েছে। ও আমাদের পরিবারেরই অংশ ছিল, আর ঘরের বাকি বিড়ালগুলোও আমার সন্তানের মতোই। আচমকা প্রতিবেশীর বাড়িতে দিকুর নিথর দেহ খুঁজে পাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারই সম্মান জানাতে চেয়েছেন তিনি।

এদিকে এই অভিনব শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পৌরোহিত্য করা পুরোহিত লিটন চক্রবর্তীও বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, কোনো পোষ্য পশুর শ্রাদ্ধ করা সত্যিই বেশ বিরল এবং ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। তবে সাধারণ মানুষের মতোই সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে যেভাবে ভক্তিভরে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, তা দেখে তাঁর খুব ভালো লেগেছে। একটি অবলা পশুর প্রতি একটি পরিবারের এই অগাধ ও নিঃশর্ত ভালোবাসা সত্যিই সমাজের বুকে এক মানবিক বার্তা দিয়ে যায়।