আজকাল ওয়েবডেস্ক: পথ দুর্ঘটনায় মৃত স্ত্রীর বিমার ক্ষতিপূরণের ১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল এক মহিলা আইনজীবীর বিরুদ্ধে। টাকা ফেরতের দাবিতে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি শহরের ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকায় অভিযুক্ত আইনজীবীর কার্যালয়ের সামনে নিজের মেয়েকে নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন মৃতার স্বামী। রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দিনভর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। অভিযুক্ত আইনজীবীর কঠোর শাস্তির দাবিতে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অনশনকারীদের দেখতে ভিড় জমান বহু পথচলতি মানুষ।
জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাড়খুটা এলাকার বাসিন্দা তাপস রায়ের স্ত্রী লক্ষ্মী রায় ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এক পথ দুর্ঘটনার শিকার হন। বাড়ি থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ধূপগুড়ির ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকাতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অন্তঃসত্ত্বা লক্ষ্মীদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের বাড়ি যান আইনজীবী কল্পনা রায়। তিনি পরিবারটিকে ১৬ লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি।
দীর্ঘদিন ঘোরানোর এবং একাধিক নথিপত্র জমা নেওয়ার পর, তাপস রায় এবং তাঁর মেয়ে তুতুল রায়ের দু’টি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭ লক্ষ টাকা করে মোট ১৪ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। অভিযোগ, অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি পরিবারটিকে একেবারেই জানানো হয়নি। উলটে বিভিন্ন নথিতে সই করানোর বাহানায় ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট জলপাইগুড়ির দিনবাজারের একটি ব্যাঙ্ক থেকে তাপসবাবুর অ্যাকাউন্টের ৭ লক্ষ টাকা তুলে নেন ওই আইনজীবী।
পরবর্তীকালে তাপস রায় ব্যাঙ্কের পাসবই আপডেট করতে গেলে বিষয়টি নজরে আসে। তিনি দেখেন, অ্যাকাউন্টে টাকা এলেও তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপরই প্রতিবেশীদের নিয়ে আইনজীবীর কাছে টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি। জলপাইগুড়িতে এই নিয়ে একটি বৈঠকও হয় এবং টাকা ফেরানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই মেয়াদ পার হলেও টাকা মেলেনি। এই বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী কল্পনা রায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত এই আমরণ অনশন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অসহায় পরিবারটি।
















