আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেম দিবসের আবহে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপনের ছবি সামনে আসছে, ঠিক তখনই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া ঘিরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শুনানির শেষ দিনে বাদের তালিকায় নাম বাড়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হলেও তথ্য ও নথি যাচাই করে তা অনলাইনে আপলোড করার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হতে কিছুটা সময় লাগবে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির শেষ দিনে মোট অনুপস্থিত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ২৫ হাজার। অর্থাৎ অনুপস্থিতির সংখ্যা কিছুটা কমলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
অন্যদিকে, যাঁরা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি বা যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে— এমন ভোটারের সংখ্যাও বেড়েছে। গতকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৪০ হাজার। আজ তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার। নির্বাচন দপ্তরের দাবি, নথি যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়া হওয়ায় এই বৃদ্ধি হয়েছে।
&t=784sপ্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, মোট ৫৮ লক্ষ নামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৬ লক্ষ ৬১ হাজার নাম মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লক্ষ ৬১ হাজার নাম বাদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কতজনের নাম বাদ পড়ল।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ERO (Electoral Registration Officer) ও AERO (Assistant Electoral Registration Officer)-দের নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কোনও ধরনের ত্রুটি যাতে না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) ও ERO পর্যায়ে যাচাইয়ের ফলে জানা গিয়েছে, মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের তথ্য ও নথি যাচাই ও আপলোডের কাজ বাকি রয়েছে। তবে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদের সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থেই এই বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া। এখন নজর ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে— চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, আতঙ্ক কতটা বাস্তব আর কতটা আশঙ্কা।
