আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভায় অনলাইন কার্ড গেম খেলার অভিযোগে বিতর্কে জড়ানো কৃষিমন্ত্রী মানিকরাও কোকাটেকে দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজ্য সরকারের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, তাঁকে কৃষি দপ্তর থেকে সরিয়ে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও ওয়াকফ সংক্রান্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে ক্রীড়া মন্ত্রী দত্তাত্রয় ভরণে হবেন নতুন কৃষিমন্ত্রী। এই রদবদল রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে, কারণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোকাটে পদত্যাগ না করেই কেবল দপ্তর বদলের মাধ্যমে মন্ত্রিত্ব বজায় রাখলেন।
গত ২০ জুলাই এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র বিধায়ক রোহিত পওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, যেখানে বিধানসভায় বসে কোকাটে-কে মোবাইলে অনলাইন গেম খেলতে দেখা যায়। এরপর থেকেই কৃষকস্বার্থ ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রশ্নে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। রোহিত পওয়ার কটাক্ষ করে লেখেন, “প্রতিদিন যেখানে আটজন কৃষক আত্মহত্যা করছেন, সেখানে কৃষিমন্ত্রীর কাছে রামি খেলার সময় থাকে!” তবে কোকাটে দাবি করেন, “আমি ইউটিউবে অন্য একটি হাউসের অধিবেশন দেখছিলাম, তখনই অ্যাড স্কিপ করার সময় গেমটি খুলে যায়। এটা রামি নয়, সলিটায়ার গেম।” তিনি আরও বলেন, “পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হোক। এটি একটি চক্রান্ত।”
আরও পড়ুন: 'শুধু বড় হলেই হয় না...দাঁড়ানোটাও জরুরি' — বিবাহ ও সম্পর্ক নিয়ে জেন জি-র নতুন চিন্তা ভাবনা
এর আগেও কৃষকদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কোকাটে। জুলাই মাসের শুরুতে রাজ্য সরকারকে “ভিখারি” বলে মন্তব্য করে সমালোচনার ঝড় তোলেন তিনি। সেই নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পদত্যাগ না করে শুধুমাত্র দপ্তর বদল করে কোকাটেকে রক্ষা করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠছে। উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনা নেতা অম্বাদাস দানভে কটাক্ষ করে বলেন, “এই যদি জবাবদিহি হয়, তবে রামি-কে রাজ্যের জাতীয় খেলা ঘোষণা করে দিন!”
সামাজিক কর্মী অঞ্জলি দামানিয়া অভিযোগ করেন, উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার শিবসেনার এক মন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোকাটেকে সরাতে চাইছেন না, যাতে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। আর কৃষক নেতা রাজু শেট্টি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “কোকাটের কাছে কি এমন কোনো গোপন তথ্য আছে যার কারণে তাঁকে ছাঁটাই করা যাচ্ছে না?” এই বিতর্কের মাঝে কোকাটে জানান, তিনি কাউকে ইস্তফা দেননি এবং তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি। যদিও কৃষকদের অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তাঁর তরফ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দপ্তর বদল সাময়িক ‘ফেস-সেভিং’ মাত্র — প্রকৃত জবাবদিহির থেকে অনেক দূরে। এখন দেখার, কৃষকদের ভরসা ফেরাতে সরকার ভবিষ্যতে আর কী পদক্ষেপ করে।
মহারাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি, যিনি বিধানসভায় বসে গেম খেলেন, রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর বড় প্রশ্ন তুলছে। যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় খরা ও কৃষি সংকট নিয়ে কৃষকরা দিশেহারা, সেখানে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষক সংগঠনগুলিও। কোকাটের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, সাধারণ নাগরিক এবং সমাজকর্মীদের একাংশও সোচ্চার। তাঁদের দাবি, কৃষকদের দুর্দশার সময় এই ধরনের ‘অবজ্ঞামূলক’ আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দপ্তর বদল কোনও শাস্তি নয় — এটি ক্ষমতার অপব্যবহারকে আড়াল করার একটা কৌশলমাত্র। কোকাটের মতো একজন বিতর্কিত নেতার মন্ত্রিত্বে থাকা, সরকারের কৃষকদরদী অবস্থান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
Maharashtra Agriculture Minister Manikrao Kokate's video of him playing Junglee Rummy, an online card game, on his phone in the Legislative Assembly proves how the BJP led state government is 'Gambling' with the lives of farmers.
— Clyde Crasto (@Clyde_Crasto)
Farmers are committing suicide due to lack of… pic.twitter.com/9WZpwtvSsGTweet by @Clyde_Crasto
















