আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভলগোগ্রাদ এয়ারপোর্টের নাম পাল্টে স্টালিনগ্রাদ এয়ারপোর্ট করলো রাশিয়া। গোটা শহরের নাম পাল্টে স্টালিনগ্রাদ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত শহরের বাসিন্দাদের ওপর ছাড়লেন পুতিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ভলগোগ্রাদ শহরের বিমানবন্দরকে নতুনভাবে 'স্টালিনগ্রাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' নামে ঘোষণা করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এক প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে এই নামবদল কার্যকর করা হয়।
১৯২৫ সালে সোভিয়েত নেতা যোসেফ স্টালিনের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয় স্টালিনগ্রাদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২-৪৩ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেই এই শহর বিশ্ব ইতিহাসে স্থান করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ডি-স্টালিনাইজেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাম পাল্টে ভলগোগ্রাদ করা হয়।
পুতিনের এই ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নাম বদল হলেও শহরের নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। বরং সেই সিদ্ধান্ত শহরের বাসিন্দাদের মতামতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ ফেরত কিছু প্রবীণ সৈনিকই এই নামবদলের প্রস্তাব দেন, যারা “একটি গর্বিত, বীরত্বপূর্ণ ও পুরুষোচিত” নাম ফিরে পাওয়ার দাবি তোলেন। পুতিন বলেন, “ওদের কথা আমার কাছে আইনস্বরূপ।”
এদিকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনও বিমানবন্দরের নতুন নাম অনুমোদন করেছেন।
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘রোসাভিয়াতসিয়া’ জানিয়েছে, ৮ থেকে ১০ মে — ভিক্টরি ডে উপলক্ষে — ভলগোগ্রাদ এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের বিমানবন্দরে ঐতিহাসিক নাম 'স্টালিনগ্রাদ' ও 'লেনিনগ্রাদ' অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত হবে।
তারা জানায়, “আমাদের বীর শহরগুলোর রক্ষকদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি সম্মান জানাতে এটি আমাদের ন্যূনতম কর্তব্য।”
উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রায় ২০ লাখ প্রাণহানি ঘটে এই যুদ্ধে, যা শেষ হয় নাৎসি জার্মানির ষষ্ঠ সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। সেই থেকেই এই শহরের নাম বিশ্ব ইতিহাসে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
সম্প্রতি, জাতীয় দিবস বা স্মরণোৎসবের সময় শহরে ‘স্টালিনগ্রাদ’ নাম আংশিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে এবার তা প্রথমবারের মতো একটি স্থায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ফিরে এল।
















