শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

‌হাতে মাত্র ৩ দিন, রণসাজে কাকদ্বীপ প্রস্তুত #দক্ষিণবঙ্গ

Pallabi Ghosh | ১২ জুন ২০২৪ ১৫ : ২৪


শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়: ইলিশ ধরতে যাওয়া তো নয়, কাকদ্বীপের মৎস্যবন্দর এখন যেন এক রণক্ষেত্র। চলছে শেষ মুহূর্তের টাচ‌, পরীক্ষা এবং নজরদারি। তাই রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে দিনভর ব্যস্ততায় ঘুম ছুটেছে কাঠ থেকে লোহা, ইলেকট্রিক থেকে ইঞ্জিন, পাম্পমোটর মিস্ত্রি থেকে জাল–‌বুনিয়েদেরও।
কয়েক একর বিস্তৃত বন্দরের এই ঘাটে এবং মাঠে রবিবার সকালে একটা চক্কর দিতেই নজর কেড়ে নিল একের পর এক চোখ–চমকানো ছবি। ঘাটে দাঁড়িয়ে–‌থাকা প্রায় শ’পাঁচেক ট্রলারের কোনওটার গায়ে নতুন করে লেখা হচ্ছে লাইসেন্স নম্বর, কোনওটায় চলছে রঙের শেষ পোঁচ। কেউ লম্বা–লম্বা শালের গুঁড়ি কাঁধে বয়ে তুলছেন ট্রলারের মাথায়, কেউ বেঁধে চলেছেন রোগা–মোটা, নীল–‌হলুদরঙা কাছি। কোনও ট্রলারে তোলা হচ্ছে বস্তাভর্তি চাল–ডাল–আলু–সবজি–তেল–নুন–সহ যাবতীয় মশলাপাতি থেকে প্যাকেট–প্যাকেট চা–পাতা, বিস্কুট, চিঁড়ে, মুড়ি, চানাচুর। কোনওটায় উঠছে বরফের বিশাল–বিশাল চাঁই তো কোনও ট্রলারে পানীয় জলের ড্রাম। কেউ আবার জ্বালানি তেল তুলতে ব্যস্ত। কোথাও আবার সেই বরফের চাঁই যত্ন করে রাখার জন্য কাটা হচ্ছে সমান মাপের টিনের পাত, মাছ ধরে রাখার জন্য বিস্তর ক্রেট। কোথাও চলছে নিজস্ব জিপিএস, ফিশ ফাইন্ডার, ওয়াকিটকির শেষ পরীক্ষা। কারণ মাঝদরিয়ায় জলের গভীরতা বা চড়া মাপতে, ভারতের জলসীমা টের পেতে, ট্রলারের গতিপথ নির্দেশে কিংবা মালিকের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখার কাজে এ–‌সব ডিভাইস‌ই ওঁদের ‘অন্ধের যষ্টি’। ট্রলারে উঠছে ছোট–বড় নানা ফাঁসের, নানা কায়দার একাধিক জাল। মহিলা–পুরুষ নির্বিশেষে এখনও চলছে সেই জাল বোনার কাজ। শুধু তো ইলিশ নয়, কোনও জালে ফাঁসবে লোটে–ভোলা, কোনওটায় চিংড়ি, কোনওটায় পমফ্রেট–রূপচাঁদ, এমন আরও নানা নামের মাছ, এমনকী উঠবে কাঁকড়াও। এদিকে, বন্দরের মাঠে ত্রিপল খাটিয়ে চলছে সেই সব শ্রমিকের জন্য দুপুরের ভাত–‌মাছ খাওয়ানোর তোড়জোড়। ওদিকে, দূরে বেলুন–কলাপাতায় সাজানো কোনও ট্রলারের বারান্দায় পুরোহিতের হাতে বাজছে শান্তিপুজোর ঘণ্টা। মাঝেমধ্যেই কাজের গতি দেখতে বাইক–হানা দিচ্ছেন ট্রলার–মালিকেরা। আর চারদিকে সমস্ত কর্মযজ্ঞের গোটা তদারকিতে ট্রলারের ক্যাপ্টেন (‌মাঝি)‌। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই দিনক্ষণ দেখে যাবতীয় পুজোপাঠ সেরে ট্রলার ভাসিয়ে হল্ট করেছেন নামখানা, হরিপুর, সীতারামপুর, পাথরপ্রতিমায়। ১৪ জুন রাত বারোটার পর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ওঁরা। অপেক্ষার রয়েছে ‘দেবী কার্ভিমা’, ‘বলরাম কৃষ্ণ’, ‘দশভুজা’, ‘তারা মা’, ‘বাবা চন্দনগড়’, ‘জয়গুরু’, ‘শঙ্খচক্র’, ‘কন্যামাতা’, ‘সূর্যনারায়ণ’রা। কেউ সদ্য তখনই, কেউ সূর্যোদয়ের মুহূর্তে শুরু করবেন যাত্রা। গঙ্গার উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে ঘাটে বাঁধা কাছি খুলে ট্রলার–মালিক শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে দেবেন ক্যাপ্টেনের হাতে। কেউ সাত দিন, কেউ দশ, কেউ পনেরো দিনের জন্য পরিবার ছেড়ে পাড়ি দেবেন গভীর সমুদ্রে।
‘যাত্রা শুরুর ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টার মধ্যে ‘নামা’য় (‌মানে দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরে)‌ চলে যাব আমরা। তার পর থেকেই শুরু মাছ ধরার অপারেশন।’ বললেন ‘মা বাসন্তী ২’–‌এর‌ প্রধান মাঝি বিজয় দাস। পনেরো দিনের জন্য ১৯ জনের টিম নিয়ে ২৫ বছরের অভিজ্ঞ বিজয় যাবেন ইলিশ–জয় যুদ্ধে। তাঁর ট্রলারে থাকছে উনুন–সহ তিনটে গ্যাস সিলিন্ডার, ৪ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার খাবার জল। নিয়েছেন ২০০ কেজি চাল, দু্শোটা বরফের চাঁই–সহ আরও আরও অনেক জরুরি সামগ্রী। বিজয়ের পাশেই ছিলেন আরেক মাঝি সেন্টু বাগ। বললাম, এবার টার্গেট কেমন?‌ উত্তর দিলেন সেন্টু। ‘এটা আমাদের কাছে জুয়া–লটারির মতো। কারও জালে রাতারাতি উঠল ১০০ মন মাছ তো, কেউ তখনও দৌড়ে বেড়াচ্ছে সমুদ্রের এ–‌প্রান্ত থেকে ও–‌প্রান্ত। তাই আগে থেকে ও–‌সব বলা যায় না।’
এ বছর কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ, নামখানা–সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন খেয়াঘাট থেকে ছোট–‌বড় মিলিয়ে পাড়ি দেবে প্রায় তিন হাজার ট্রলার। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র তথ্যটি দিয়ে বললেন, ‘আরও একটা কথা। সরকারি স্তরে ৫ লাখ টাকার বিমা ছাড়াও ট্রলার–‌মালিকদের দেওয়া প্রত্যেকের আলাদা করে জীবনবিমা রয়েছে আমাদের খাতায় নথিবদ্ধ মৎস্যজীবীদের জন্য। তা ছাড়াও আপৎকালীন বিপদ সামলাতে এবার নতুন করে বরাদ্দ হয়েছে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা।’ সেন্টু–‌বিজয়দের কথার জের ধরে জানতে চাইলাম, এ বছর বাঙালির পাতে ইলিশ–সুখ কেমন?‌ সতীনাথ শোনালেন সম্ভাবনার কথা, ‘‌পাহাড়ে যদি ভাল বৃষ্টি হয় তাহলে নিশ্চিত মিলবে দেদার ইলিশ।’‌‌ আপাতত আশায় বাঁচুক চাষা।




বিশেষ খবর

নানান খবর

Advertise with us

নানান খবর

Weather: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বৃষ্টি?‌ জানুন হাওয়া অফিসের আপডেট...

Sonarpur: ‌অবশেষে পুলিশের জালে সোনারপুরের জামাল

Eastern Railway: শনি-রবিতে কোনও ট্রেন বাতিল হচ্ছে না, জানিয়ে দিল পূর্ব রেল...

Sealdah Station: ৮ লক্ষ টাকার গাঁজা নিয়ে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি যাচ্ছিল দুই যুবক, হাতেনাতে ধরল আরপিএফ...

CRACKER MANUFACTURING FACTORY: বিরাট বড় শেড, ল্যাবরেটরিতে মজুত একাধিক বিষ্ফোরক, সামনে এল আরও এক বেআইনি বাজি কারখানা...

School Principal Recruitment: প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের ?...

Arnab Daam: দয়া করে আমায় পিএইচডিটা করতে দিন, 'মাওবাদী' অর্ণবের বিশেষ অনুরোধ ...

Police Station: সেলুনে বচসার পর যুবককে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে গেল পুলিশ, তারপর যা হল... ...

Mamata Banerjee: এবারে চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস, কী করছেন রেল কর্তৃপক্ষ? প্রশ্ন মমতার ...

MURDER CASE: ১৪ বছর পর গুড়াপের শেখ ইব্রাহিম খুনের মামলায় রায় ঘোষণা করবে চুঁচুড়া আদালত ...

Shravani Mela: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলায় পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, নজর যোগাযোগ মাধ্যমে...

Murshidabad: স্বামীর সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিলেন একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী, উল্টোদিক থেকে সজোর ধাক্কা মারল বাইক...

Records: ‌ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এবং এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম আরাত্রিকার...

Hooghly: মহর‌‌মে হুগলি ইমামবাড়ায় উপচে পড়া ভিড়, দেখা গেল সম্প্রীতির ছবি...

BJP-TMC: এপাং-ওপাং-ঝপাং, গেরুয়া শিবির থেকে ঘাসফুল শিবিরে ঝাঁপ নেতার, পঞ্চায়েত হাতে এল তৃণমূলের ...

Murshidabad: ‌একে অপরের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্ত দাবি, শীর্ষ দুই তৃণমূল নেতার দাবি ঘিরে শোরগোল...

Assault: মান্যতা নেই এই বিয়ের, সালিশি সভার বিচারে দম্পতির চুল কেটে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হল গ্রামে!...



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া