আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র বহরমপুর। নজরে রয়েছে এখানকার প্রার্থীরাও। এই কেন্দ্রে মূল লড়াই পাঁচ বারের কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার নির্মল সাহা এবং বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার তথা তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের।  নজরকাড়া কেন্দ্রের প্রার্থীদের সম্পদও এখন দেশের ভোটারদের নজরে। গত ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্রে জমা করেছেন বিজেপি এবং তৃণমূল প্রার্থী। বুধবার প্রশাসনিক ভবনে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা করেন অধীর, পরপর ছ" বার জিতে জয়ের "ডবল হ্যাট্রিক" করার লক্ষ্য নিয়ে এবার নির্বাচনের ময়দানে কংগ্রেস নেতা। 
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনাম অনুযায়ী কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বহরমপুর থানায় রুজু হওয়া এবং একটি মামলা মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে রুজু হয়েছে। এই মামলাগুলির মধ্যে কাউকে অবৈধভাবে আটকানোর মতো লঘু ধারার মামলা যেমন রয়েছে তেমনি অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা করার চেষ্টা, ঘৃণা ভাষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ঘটানোর চেষ্টা অভিযোগ রয়েছে। যদিও বহরমপুর ঈশ্বরচন্দ্র ইনস্টিটিউশন থেকে নবম শ্রেণী উত্তীর্ণ অধীর চৌধুরী এখনও কোনও ক্রিমিনাল কেসে দোষী সাব্যস্ত হননি। নির্বাচনী হালফনামায় বিজেপি এবং তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। 
নির্বাচনের লড়ার আগে এই মুহূর্তে অধীরের হাতে প্রায় ২.১১ লক্ষ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ প্রায় ৫.৪৯ লক্ষ টাকা রয়েছে। অধীর চৌধুরীর নিজের একটি ফোর্ড ইকো স্পোর্টস গাড়ি রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীর দুটি গাড়ি রয়েছে। "গোল্ড বন্ড," শেয়ার এবং অন্যান্য বিনিয়োগ ধরে কংগ্রেস প্রার্থীর মোট ৩৯.৩৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী-র রয়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। এর পাশাপাশি গোরাবাজার, কালিকাপুর, মহিষবাথান, নিউটাউন এলাকায় অধীর এবং তার স্ত্রীর একাধিক "অকৃষি" জমি রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী-র স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা। তবে কোটিপতি অধীরের ছোট্ট একটি দেনাও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে তার প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার একটি গৃহ নির্মাণ ঋণ রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় অধীর নিজেকে একজন রাজনীতিক এবং সমাজকর্মী হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, তাঁর আয়ের উৎস সাংসদ হিসেবে পাওয়া ভাতা। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যৌথ ব্যবসাও রয়েছে। নিজের স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি কমিটির সদস্য হিসেবে। স্ত্রী-র নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে এবং উনি একজন পেশাদার পরামর্শদাতা।