আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। ৩৯ বছরের মহাতারকার সামনে দেশের হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং দলগত একাধিক নজির গড়ার হাতছানি রয়েছে। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতলে, চতুর্থবার বিশ্বকাপ জিতবে। বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যায় জার্মানি এবং ইতালিকে ছুঁয়ে ফেলবে আলবিসেলেস্তেরা। একইসঙ্গে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কৃতিত্বও অর্জন করবেন মেসি। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দু'বার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে। শুধু তাই নয়, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং পরপর দুটো কোপা আমেরিকা জয়ের পর বিশ্বকাপ জিততে পারলে, প্রথম দেশ হিসেবে টানা চারটে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতার নজির গড়বে আর্জেন্টিনা

একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডের মুখে দাঁড়িয়ে মেসি। ৩৯ বছরে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক প্লেয়ার তিনি। ফাইনালে গোল করতে পারলে তিনিই হবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা। এছাড়াও তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে নামছেন মেসি। এর আগে শুধুমাত্র ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে থাকলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনটি ফাইনালে প্রথম একাদশে নামা প্রথম ফুটবলার হবেন মেসি। এর আগে ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও শুরু থেকেই খেলেছিলেন। আর্জেন্টিনা বিশ্বজয় করলে, মেসিই হবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক, যিনি দু'বার নিজের দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। 

গোলের রেকর্ডের দিক থেকেও মেসির সামনে রয়েছে একাধিক মাইলফলক। ফাইনালে একটি গোল করলেই দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ষষ্ঠ ফুটবলার হবেন। এই তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের পেলে এবং ভাভা, পশ্চিম জার্মানির পল ব্রাইটনার, ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান এবং কিলিয়ান এমবাপে। এছাড়াও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন মেসি। এই পুরস্কার জিততে হলে তাঁকে ফাইনালে তিনটি গোল করতে হবে, বা দুটি গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট করতে হবে। তাহলেই এমবাপেকে পেছনে ফেলে দেবেন। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একনম্বরে এমবাপে। তাঁকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন একটি গোল। আর দু'গোল করলেই এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করবেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একইসঙ্গে, একটি গোল করলেই এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও নিজের নামে করে নেবেন মেসি। বর্তমানে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্টাবিলের করা আট গোলের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। ফাইনালে গোল করলেই সেই সংখ্যা হবে নয়। যদি ফ্রিকিক থেকে গোল করেন, সেক্ষেত্রে এক বিশ্বকাপে তিনটি ফ্রিকিকে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়বেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।