আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার ডুরান্ড ডার্বি দিয়ে শুরু হবে ফুটবল মরশুম। তার আগেই শুরু হয়ে গেল ইস্ট-মোহনের সিনিয়র দলের প্র্যাকটিস। দলবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন দুই প্রধানের দুই নতুন হেড কোচ পানাগিওটিস দিলমপেরিস এবং অ্যান্টনিও লোপেজ হাবাস। রবিবার সকালে কলকাতায় এসেছেন প্যানোস। শহরে পা রেখেই ছোটেন মোহনবাগান মাঠে। কালীঘাটের সঙ্গে দলের খেলা দেখেন। সোমবার বিশ্রামের পর মঙ্গলবার নেমে পড়লেন প্রথম প্র্যাকটিসে। সিনিয়র দলের প্রথম অনুশীলন। প্রথমে হওয়ার কথা ছিল মোহনবাগানের ঘরের মাঠে। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য, সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু নতুন কোচের প্র্যাকটিস শুরুর দিন ফিকে। দেখা মেলেনি কোনও সমর্থকের। 

সাধারণত মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলে নতুন কোচ বা কোনও নতুন ফুটবলার এলে, ফুল-মালা নিয়ে হাজির থাকে সমর্থকের দল। কিন্তু মঙ্গল বিকেলে সেই ছবি দেখা যায়নি। বরং, বাগানের প্র্যাকটিসে কোনও সমর্থকই ছিল না। ছিলেন না মোহনবাগান কর্তারাও। বিকেল সাড়ে চারটে থেকে প্র্যাকটিস ছিল বাগানের। বেশ কিছুক্ষণ ড্রেসিংরুমে প্লেয়ারদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন কোচ। প্রায় পাঁচটা নাগাদ মাঠে নামেন মনবীর, বিশালরা। ছিলেন না কোনও বিদেশি ফুটবলার। স্থানীয়দের মধ্যে সিনিয়র দলের ফুটবলাররা উপস্থিত ছিল। শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো, মণবীর সিং, অনিরুদ্ধ থাপা, কিয়ান নাসিরি, বিশাল কাইত, সায়ন ব্যানার্জিরা অনুশীলনে ছিলেন। এছাড়াও হাজির ছিল কলকাতা লিগ খেলা জুনিয়র দলের ফুটবলাররা। দলের সঙ্গে যোগ দেন অ্যালেক্স সাজি। এদিনের অনুশীলনে ছিলেন তিনি। বুধবার সকাল সাতটায় কলকাতায় পা রাখবেন দেজান ড্রাজিচ। 

এদিন মাঠে নেমেই ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারেন সবুজ মেরুনের নতুন কোচ দিলমপেরিস। শুরুতেই ঘুরে ঘুরে সকলের সঙ্গে করমর্দন করেন। তারপর হাডেলে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ প্লেয়ারদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিচয় করান গ্রিসের সহকারী কোচের সঙ্গেও। সোমবার মাঠে না নামলেও, চলতি সপ্তাহের সূচি তৈরি করে ফেলেছেন বাগানের নতুন হেড কোচ। ফুটবলারদের কাছে সেই সূচি পৌঁছেছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। তারপর ওয়ার্ম আপের জন্য দায়িত্ত্ব ছেড়ে দেন সহকারীকে। তারমধ্যে মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ কলকাতা লিগের কোচ এবং তাঁর সহকারী বাস্তব রায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারমধ্যেও নজর ছিল ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের দিকে। শারীরিক কসরতের পর কড়া অনুশীলন করান। ডুরান্ড কাপের বোধনেই ডার্বি। মাত্র তিনদিন বাকি। সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের মিশ্রণে দল গঠন করবেন প্যানোস। কারণ ইতিমধ্যেই কলকাতা লিগের তিনটে ম্যাচ খেলে ফেলেছে মোহনবাগান। জুনিয়র দলের প্র্যাকটিস দিন দশেক বা তারও একটু বেশি হল শুরু হয়েছে। বিদেশিদের মধ্যে একমাত্র ড্রাজিচকে পাওয়া যেতে পারে। 

অন্যদিকে রবিবার ভোররাতে শহরে পা রেখেই জেট ল্যাগ ঝেড়ে ফেলে প্র্যাকটিসে নেমে পড়েন অ্যান্টনিও লোপেজ হাবাস। মাত্র কয়েক ঘণ্টা হোটেলে বিশ্রাম নেন লাল হলুদের নতুন কোচ। মঙ্গলবার বিকেলে রাজারহাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গল। এতদিন লাল হলুদ ব্রিগেড যুবভারতীতেই প্র্যাকটিস করছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরই হাবাস ম্যানেজমেন্টকে জানিয়ে দেন, মোহনবাগান দলের হোটেল সংলগ্ন মাঠে তাঁরা প্র্যাকটিস করতে চান না। তাই প্র্যাকটিস ভেন্যু বদলে ফেলা হয়। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে, কলকাতায় পা রাখার আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন আইএসএলের অন্যতম সফল কোচ। সবুজ মেরুন শিবিরের থেকে লাল হলুদ শিবিরের চিত্রটা ছিল একটু অন্যরকম। প্র্যাকটিস শেষে সমর্থকদের দেখা মেলে। ইস্টবেঙ্গলে হাবাসকে স্বাগত জানায় সাপোর্টাররা। হাসিমুখে তাঁদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেলফিও তোলেন হাবাস। ইস্টবেঙ্গলের প্র্যাকটিসে দেখা যায় সেই চিরাচরিত ছবি। হাবাসের কাছে ডার্বি জয়ের আবদার লাল হলুদ সমর্থকদের। মরশুমের শুরুতেই ডার্বি কখনও জমজমাট হয় না। কিন্তু হাবাস ফ্যাক্টর বড় ম্যাচের আকর্ষণ নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দেবে।