আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের ইতিহাসে নতুন নজির গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৫৫০ কোটি টাকার ব্র্যান্ড মূল্য অতিক্রম করেছে বিরাট কোহলিদের দল। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও এক ঐতিহাসিক বছর পার করল আরসিবি।
একই সময়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সামগ্রিক ব্যবসায়িক মূল্য প্রথমবারের মতো ২০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। ২০২৬ সালে লিগের মোট ব্যবসায়িক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
হাউলিহান লোকির ২০২৬ সালের আইপিএল ভ্যালুয়েশন স্টাডি অনুযায়ী, গত এক বছরে আইপিএলের ব্যবসায়িক মূল্য বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ। লিগের নিজস্ব ব্র্যান্ড মূল্যও বেড়ে হয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
হাউলিহান লোকির ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ভ্যালুয়েশন অ্যাডভাইজরি বিভাগের ডিরেক্টর হর্ষ তালিকোটি জানিয়েছেন, আইপিএলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।
তিনি বলেন, "এই বছর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে বাজার থেকে। দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হাতবদল হয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রায় ১৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় এবং রাজস্থান রয়্যালস প্রায় ১৪ হাজার ২৫ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই ক্রেতারাই প্রমাণ করছেন যে আইপিএল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রীড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরসিবি এবং রাজস্থান রয়্যালসের রেকর্ড দামে বিক্রি আইপিএলের সামগ্রিক মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আরসিবি কিনেছে আদিত্য বিড়লা গ্রুপ, টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ, ডেভিড ব্লিটজারের বোল্ট ভেঞ্চার্স এবং ব্ল্যাকস্টোনের বিএক্সপিই-সহ একটি কনসোর্টিয়াম। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা গিয়েছে মিত্তল পরিবার এবং সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালার হাতে।
হাউলিহান লোকির রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে আইপিএলের ব্যবসায়িক মূল্য দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে এর মূল্য ছিল ১৫.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে এই অঙ্ক পৌঁছয় ১৮.৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। ২০২৬ সালে তা আরও বেড়ে হয়েছে ২০.৬ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালের আইপিএল মরশুমে মিডিয়া স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি মিলিয়ে মোট আয় ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঞ্জাব কিংসের সহ-মালিক নেস ওয়াডিয়াও মনে করেন, আইপিএলের বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও অনেক বাকি। তাঁর বক্তব্য, "আমার মনে হয় আইপিএল এখনও সবে শুরু করেছে।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী রাজস্ব ভাগাভাগির মডেল, বাড়তে থাকা স্পনসর আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণেই আইপিএল বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে চলা পরবর্তী মিডিয়া স্বত্বের চক্রেও আরও বড় অঙ্কের দর উঠতে পারে বলে আশা করছে হাউলিহান লোকি।
















