আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ব্যাটারদের ব্যর্থতায় রঞ্জি থেকে বিদায়ের পথে বাংলা?‌ 


অথচ তৃতীয় দিনটা কিন্তু দুর্দান্তভাবে শুরু করেছিল বাংলা। মহম্মদ সামি একাই আট উইকেট নিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন জম্মু–কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস। জম্মু–কাশ্মীরের ১০টা উইকেটের মধ্যে ৮টা উইকেটই তারকা পেসারের। ৯০ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুললেন সামি। যা তাঁর ব্যক্তিগত নজির। এর আগে রনজিতে ৭৯ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। যার সৌজন্যে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ২৬ রানের লিড পেয়ে যায় বাংলা। অভিমন্যু ঈশ্বরণদের ৩২৮ রানের জবাবে আকিব নবিদের ইনিংস শেষ হয় ৩০২ রানে। দুটি উইকেট পান মুকেশ কুমার।


এরপর ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় বাংলা। মাত্র ৯৯ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। রান প্রায় কেউই পাননি। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন করেন ৫। সুদীপ চ্যাটার্জি ও সুদীপ কুমার ঘরামি খাতাই খুলতে পারেননি। অনুষ্টুপ করেন মাত্র ১২। সর্বোচ্চ শাহবাজ আহমেদের (‌২৪)‌। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়েছে বাংলা। মাত্র ১২৫ রানের লিড পায় বাংলা।
জবাবে দিনের শেষে জম্মু–কাশ্মীরের রান ২ উইকেটে ৪৩। আর মাত্র ৮৩ রান চাই। তাহলেই তৈরি হবে ইতিহাস। প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে উঠবে জম্মু–কাশ্মীর। হাতে রয়েছে আট উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার হয়ে আট উইকেট নিয়েছেন আকাশ দীপ।


দিনের শুরুটা আবার ছিল বাংলার। বলতে গেলে সামির। কল্যাণীর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের শেষে তাদের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৯৮। মহম্মদ সামির ইনকাটারে ঠকে দ্রুত ফেরেন শুভম খাজুরিয়া (৩) এবং ইয়াওয়ের হাসান খান (২)। মুকেশ কুমারের বলে শুভম পুন্দিরও (৮) ব্যর্থ হন। সেখান থেকে লড়াই করে যান আকিব। তৃতীয় দিনে শাহবাজ আহমেদ–আকাশ দীপদের সামলে আকিব ও যুধবীর যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল বাংলা লিডও হারাতে পারে। আর সেই সময় সামির ম্যাজিক।
জম্মু–কাশ্মীরের রান ২০০ পেরোনোর পর পরই আবিদ মুস্তাককে আউট করেন সামি। তারপর কানহাইয়া ওধাওয়ানকে ফেরান। বংশজ শর্মাকে ফেরাতেও বেশিক্ষণ সময় লাগেনি। সামির সুইংয়ে খোঁচা দিয়ে ফেরেন। তবে আকিব নবি (৪২) ও যুধবীর (৩৩) দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যান। আর দু’জনেরই উইকেট ছিটকে দেন সামি। ৯০ রানে ৮ উইকেট পান সামি। চলতি মরশুমে তিন ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেটে সামির মোট উইকেট সংখ্যা ৬৭। কিন্তু দিনের শেষে বাংলার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় পুরো পরিস্থিতিই গেল বদলে।