আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি-এর সঙ্গে হন্ডুরাসের কোচ হোসে মোলিনা-এর একটি ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে ভারতের ক্লাব ফুটবলে মোলিনার অতীত জড়িয়ে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছেন তিনি।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ থাকাকালীন সুপার কাপের ব্যর্থতার পর দল নির্বাচন ও কৌশল নিয়ে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়। এরপর সবুজ-মেরুন শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটে। পরে তিনি দায়িত্ব নেন হন্ডুরাস জাতীয় দলের, যেখানে তিনি এখন বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও কোচিং করিয়েছেন। যদিও সেই ম্যাচে হন্ডুরাস আর্জেন্টিনাকে থামাতে পারেনি।

তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় মোলিনাকে ঘিরে আলোচনা প্রমাণ করছে, তিনি ভারতীয় ফুটবলে না থাকলেও এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। এটিকে-কে চ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি। মোহনবাগান সুপারজায়ান্টকেও দারুণ সাফল্য দিয়েছেন। কিন্তু একটা মরশুম খারাপ হওয়াতেই তাঁকে শুনতে হয়েছিল দুয়ো ধ্বনি। 

May be an image of text that says 'KASHI 1049 oR'

প্রাক্তন গোলকিপার ও ইন্টার কাশীর গোলকিপিং কোচ অভিজিৎ মণ্ডল বলছেন, ''আমাদের স্বভাবটাই সেরকম। দূরের ঘাস আমাদের কাথে বেশি সবুজ লাগে। মোলিনা অনেক বড় মাপের কোচ। আজ সকালে ওঁকে দেখে বেশ গর্ববোধও হচ্ছিল। ভাবছিলাম আইএসএলে কোচিং করানো একজন কোচ কতদূরে পৌঁছে গিয়েছেন।'' 

বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী অভিজিৎ ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান ছবিটা তুলে ধরে বলেন, ''যে যাই বলুক কলকাতার তিনটি ক্লাব--মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহমেডান স্পোর্টিং ভারতীয় ফুটবলের প্রাণভোমরা। কত ক্লাব আর্থিক সঙ্কটে উঠে যাওয়ার মুখে। ইন্টার কাশীর কী অবস্থা হবে কেউ জানে না। কেউ কি এই ক্লাবগুলোর কথা ভাবে? এই ক্লাবগুলোর প্লেয়ার-কোচদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তো কোনও চিন্তা কারওর মধ্যে দেখি না। মহমেডান স্পোর্টিং খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঐতিহ্যশালী এই ক্লাবের দুঃসময়ে মানুষ এগিয়ে আসছে। তার পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। এই তিনটি ক্লাবই ভারতীয় ফুটবলের নিউক্লিয়াস।''  প্রসঙ্গান্তর ঘটালেও ঠিক জায়গায় আলো ফেলছেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন গোলকিপার। 

Sandip Nandy

আরেক প্রাক্তন গোলকিপার আবার বলছেন, ''মোলিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি দিমি পেত্রাতোসকে বেশি সময় খেলাতেন না। রবসনকেও তাঁর পছন্দ ছিল বলে মনে হয় না। অন্তত মোলিনার সাংবাবিদক বৈঠক শুনে যা বুঝেছি। মোলিনা যে ঠিক, তা আজ বোঝা যাচ্ছে। লোবেরা তো এই দিমি-রবসনকেই পেয়েছিলেন। পারলেন কি মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন করতে? একসময়ে আইএসএলে মোহনবাগান অনেক এগিয়েছিল, সেই তারাই পয়েন্ট খুইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করল। কোচের হাতে ভাল প্লেয়ার না থাকলে তিনি কিছুই করতে পারবেন না।'' অভিজিৎ বলছেন, ''কোচ আসলে ম্যানেজার। ড্রেসিং রুমের ভিতরে ও বাইরে তাঁকেই ম্যানেজ করতে হয়। অনেক দূর থেকে আমার পক্ষে বলাটা সঠিক হবে না। তবুও আমার মনে হয় মোলিনা হয়তো সব জিনিসটা ঠিক মতো ম্যানেজ করতে পারেননি। ভদ্র কোচ, কম কথা বলতেন। তবে খুবই হাইপ্রোফাইল একজন কোচ তিনি। কিন্তু ফুটবলে দিনের শেষে পারফরম্যান্সটাই শেষ কথা।'' 

হোসে মোলিনা আজও মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মোহনবাগান থেকে চলে যাওয়ার পরও মোলিনা যেন আরও বেশি করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজ, তাঁর ভাবনা এবং তাঁর কোচিং দর্শনের মূল্য যেন নতুন করে অনুধাবন করছেন সমর্থকরা। বলা যায়, দূরে সরে গেলেই অনেক সময় একজন পেশাদারের কদর আরও বেড়ে যায়, মোলিনার ক্ষেত্রেও যেন সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।