আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে এক অভাবনীয় প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

অভিযোগ উঠেছে, এক স্লিপ ফিল্ডার ব্যাটে বল লাগার শব্দ নকল করতে আঙুল টিপে ‘ক্লিক’ শব্দ করেছিলেন, যার পর ব্যাটারকে আউট দেওয়া হয়। 

এমন অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগের ডিভিশন-২ ম্যাচে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওয় দেখা যায়, বলটি ব্যাটারের ব্যাটের বাইরের প্রান্ত দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথম স্লিপে থাকা এক ফিল্ডার আঙুল দিয়ে শব্দ করার মতো অঙ্গভঙ্গি করছেন। এরপর উইকেটকিপার ক্যাচ ধরেন এবং আবেদন করা হলে আম্পায়ার আঙুল তুলে ব্যাটারকে আউট দেন। যদিও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাট ও বলের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁক ছিল।

স্থানীয় ক্রিকেটার বেন মামেরি ভিডিওটি প্রকাশ করেন। 'ক্রিকেটে দেখা সবচেয়ে খারাপ প্রতারণার ঘটনাগুলোর একটি' বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপর বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

তবে অভিযোগ শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মিডলসব্রো দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়ক ররি কটারিল দাবি করেছেন, একই ম্যাচে আরও দু'টি এমন ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর অভিযোগ, তিনটি ঘটনার মধ্যে অন্তত দু'টি আউটের শিকার হয়েছিলেন ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী কিশোর ক্রিকেটাররা।

কটারিল জানান, একটি ঘটনার সময় তিনি নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে আরও কিছু ম্যাচের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সল্টবার্নের আগের কিছু আউট নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 27, 2026

 

ঘটনার পর নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

লিগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শনিবার ডিভিশন-২ ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে লিগ একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করা হবে না।”

চলতি মরশুমে ডিভিশন-২-এর শীর্ষে রয়েছে সল্টবার্ন, ফলে অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে নজরে এসেছে দলের উইকেটকিপারের অসাধারণ ক্যাচের পরিসংখ্যানও। 

তবে এই পরিসংখ্যান থেকে কোনও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু আঙুল দিয়ে ‘এজ’-এর শব্দ তৈরির ভিডিও সামনে আসার পর সেই রেকর্ড নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। 

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা সল্টবার্নের পুরনো ম্যাচগুলোর ভিডিও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। বেশ কয়েকটি ভিডিওতে একই ধরনের অভিযোগ তোলা হলেও, লিগের তদন্তে সেগুলোর সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সল্টবার্নের কিছু ম্যাচের লাইভস্ট্রিমও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ক্লাব ক্রিকেট মহলে এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, পয়েন্ট কাটা কিংবা অবনমনের মতো শাস্তির দাবি তুলেছেন।