আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি এসেছিলেন ঝড়ের বেগে, আর ঝড়ের কাছেই যেন রেখে গেলেন তার ঠিকানা।
মরশুমের মাঝপথে যখন ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগ দিশাহারা, যখন গোল যেন অধরা মাধুরী, তখনই লাল-হলুদের আকাশে উদিত হয়েছিল এক নতুন সূর্য। তাঁর নাম ইউসেফ এজেজারি।
তাঁর আগে এসেছিলেন অনেকেই। মরোক্কোর হামিদ আহদাদকে ঘিরে ছিল প্রত্যাশার পাহাড়, কিন্তু সেই পাহাড় ভেঙে পড়েছিল হতাশার ভারে। হিরোশিও পারেননি গোলের খরা কাটাতে। সমর্থকদের চোখে তখন শুধুই প্রশ্ন, শুধুই অপেক্ষা।
আর ঠিক সেই সময়েই যেন গল্পের নায়কের মতো মঞ্চে প্রবেশ করেন এজেজারি।
তিনি এলেন, দেখলেন আর জয় করে নিলেন। মাত্র ১৩ ম্যাচে ১১ গোল। সংখ্যাটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা এক অসম্ভব প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। প্রতিটি গোল যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে লাল-হলুদ জনতাকে।
মেগা টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে যখন ইস্টবেঙ্গল ০-১ গোলে পিছিয়ে, তখন উদ্বেগে কাঁপছে হাজার হাজার সমর্থকের হৃদয়। সেই কঠিন মুহূর্তে ভরসা জুগিয়েছেন এজেজারি। তাঁর গোলেই ফেরে সমতা। এরপর মহম্মদ রশিদের গোল ইস্টবেঙ্গলকে পৌঁছে দেয় চ্যাম্পিয়নের সিংহাসনে। কিন্তু সেই ইতিহাসের পাতায় প্রথম অক্ষরটি লিখেছিলেন এজেজারিই।
সোনার বুট তাঁর পায়ে শোভা পেয়েছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় পুরস্কার তিনি জিতে নিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হৃদয়ে।

আর সেই হৃদয়ের টানেই হয়তো তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন, "ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমার প্রথম পছন্দ ইস্টবেঙ্গল। ভারতে খেললে ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আমি কোথাও খেলব না।"
এই কয়েকটি কথায় ফুটে ওঠে এজেজারির ইস্টবেঙ্গলের প্রতি শ্রদ্ধা। নতুন মরশুমে তিনি আবার লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপাবেন কি না, তার উত্তর এখনও সময়ের কাছে বন্দি।
কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, যতদিন ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস লেখা হবে, ইউসেফ এজেজারির নাম সেখানে সোনালি অক্ষরেই জ্বলজ্বল করবে।
হয়তো তিনিও অপেক্ষা করছেন। অপেক্ষা সেই চেনা ডাকের, সেই প্রিয় ক্লাবের আহ্বানের। আর সমর্থকেরাও অপেক্ষায়, আরও একবার তাঁদের প্রিয় নায়কের পায়ে ফুটুক গোলের জাদু, আরও একবার লাল-হলুদ গ্যালারিতে ধ্বনিত হোক তাঁর নাম।
কিছু ফুটবলার শুধু গোল করেন না, ইতিহাসও লিখে যান। ইউসেফ এজেজারি সেই বিরল এক ব্যক্তিত্ব।















