মাঝরাতে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থেকে খাবার বা পছন্দের জিনিস অর্ডার করা এখন শহরবাসীর রোজকার অভ্যাস। কিন্তু সেই ডেলিভারি নিতে গিয়েই যদি কোনও যুবতীকে চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়? সম্প্রতি অ্যানিয়া উইগ নামের এক যুবতী জোম্যাটো  ডেলিভারি রাইডারের সঙ্গে ওঁর এক অত্যন্ত ভয়ানক ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ওঁর এই পোস্টটি বিশেষ করে কর্মরতা এবং একা থাকা নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে এক মস্ত বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


লিঙ্কডইন-এ নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানিয়ে অ্যানিয়া লেখেন, ঘটনার দিন রাতে ডিনার শেষ করার পর তিনি জোম্যাটো থেকে একটি ‘পান’ অর্ডার করেছিলেন। রাত ১১টা নাগাদ ডেলিভারিটি রিসিভ করার জন্য তিনি নিজের ফ্ল্যাট বা বাড়ি থেকে একা নীচে নেমে আসেন। তারপরের কথা শুনেই শিউরে উঠছে নেটপাড়া। বিশেষ করে মেয়েরা। 

অ্যানিয়ার অভিযোগ, প্যাকেটটি হাতে দেওয়ার সময় ওই জোম্যাটো রাইডার প্রথমে জানতে চান তিনিই অর্ডারটি করেছেন কি না। পরিস্থিতি বুঝে এবং নিজে একা থাকায় অ্যানিয়া কোনও উত্তর না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু এর পরেই ওই ডেলিভারি বয় নাকি একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও চটুল মন্তব্য করে বসেন। অ্যানিয়ার দাবি, “প্যাকেটটি আমার হাতে দেওয়ার সময় ও কুৎসিতভাবে মন্তব্য করে যে— একজন মেয়ে হয়ে, এই বয়সে আমি কেন এই জিনিস (পান) অর্ডার করছি! এই কথা শোনা মাত্রই আমি প্যাকেটটি নিয়ে হনহন করে ভেতরের দিকে হাঁটতে শুরু করি।”

এই সামান্য ঘটনাটি অ্যানিয়াকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত এবং আতঙ্কিত করে তোলে যে তিনি জোম্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একজন ডেলিভারি পার্টনারের গ্রাহকের ব্যক্তিগত অর্ডারের ভেতরে উঁকি দেওয়ার এবং তা নিয়ে নীতিপুলিশগিরি মন্তব্য করার অধিকার কে দিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

 

তবে সবচেয়ে বড় যে আশঙ্কার কথা অ্যানিয়া প্রকাশ করেছেন, তা প্রতিটি নারীর অবদমিত ভয়কে সামনে এনেছে। অ্যানিয়া জানান, তিনি জোম্যাটোর কাছে অফিশিয়াল কমপ্লেন করার কথা ভাবলেও পরে পিছিয়ে যান। ওঁর কথায়— “আমি যদি ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাই, তবে সংস্থার তরফ থেকে ওর বিরুদ্ধে হয়তো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা ওর চাকরি যাবে। কিন্তু ও তো খুব ভাল করেই চেনে আমি ঠিক কোথায় থাকি! যদি ওর পৌরুষে আঘাত লাগে, তবে ও এসে আমার বড় কোনও ক্ষতি করে দেবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?” ওঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ নারীর মনে তৈরি হওয়া প্রতিনিয়ত ভয়ের বাস্তব চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে।


পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হতেই নেটপাড়ার মানুষ, বিশেষ করে নারী সমাজ জোম্যাটোকে ট্যাগ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন। ডেলিভারি পার্টনারদের আচরণ উন্নত করা এবং গ্রাহকদের (বিশেষত মহিলাদের) গোপনীয়তা ও ঠিকানা সুরক্ষিত রাখার জন্য কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে জোম্যাটো কর্তৃপক্ষ। অ্যানিয়ার সেই পোস্টের নিচেই অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে দুঃখপ্রকাশ করে কমেন্ট করা হয়। জোম্যাটোর তরফ থেকে অ্যানিয়াকে ওঁর ‘অর্ডার আইডি’ সরাসরি ডিরেক্ট মেসেজে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।