বর্তমানে চাকরিরর মন্দার বাজারে চাকরিপ্রার্থীদের লড়াইয়ের গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু পুনের এক যুবকের সঙ্গে চাকরির ইন্টারভিউতে যা ঘটল, তা কর্পোরেট দুনিয়ার চরম শোষণ ও অমানবিক চেহারাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল। প্রণব নামের পুনের এক চাকরিপ্রার্থী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ওঁর একটি ওয়াক-ইন ইন্টারভিউয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় তুমুল ভাইরাল এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। প্রণবের দাবি, অনেক আশা নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে টেকনিক্যাল রাউন্ড তো দূর, প্রথম এইচআর রাউন্ডেই ওঁর সামনে এমন এক অদ্ভুত প্রস্তাব রাখা হয়, যা শুনে তিনি আকাশ থেকে পড়েন!
প্রণবের দাবি, ইন্টারভিউতে ওঁর কারিগরি দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা আগের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও প্রশ্নই করা হয়নি। প্রথম রাউন্ডেই এইচআর রিপ্রেজেন্টেটিভ ওঁর সামনে সোজা প্রস্তাব রাখেন - “আপনি কি আগামী ৬ থেকে ৮ মাস আমাদের এখানে সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় কাজ করতে রাজি আছেন? যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে, তবে তার পরে আমরা আপনাকে বেতন দেওয়ার কথা ভেবে দেখব!”
পোস্টে প্রণব লিখেছেন, “আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ওঁরা আমার সঙ্গে কোনও রসিকতা করছেন। বছরের পর বছর এত পড়াশোনা করার পর, নতুন নতুন টেকনোলজি শেখার পর কেউ একজন ক্যান্ডিডেটকে ফুল-টাইম কাজের জন্য কোনও গ্যারান্টি ছাড়া বিনা পয়সায় খাটতে বলতে পারে, এটা ভাবাই যায় না।”
went for a walk-in interview today. safe to say, it was my first and probably my last.
— Pranavvv (@pranvv27)
like most job seekers, i reached the venue with some hope. the market is already tough, so you try every opportunity that comes your way.
the first round wasn’t even technical. it was with… pic.twitter.com/gdwOluRRgbTweet by @pranvv27
প্রণব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এটিকে কোনওভাবেই কোনও রুটিন ইন্টার্নশিপ বা ট্রেনিং প্রোগ্রাম বলা চলে না। ইন্টার্নশিপে সাধারণত কম স্টাইপেন্ড দেওয়া হয় বা শেখার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই কোম্পানিটি মূলত একটি ‘ফুল-টাইম’ পদের জন্যই লোক নিচ্ছিল। প্রণবের কথায়, “এটা কোনও নির্দিষ্ট স্টাইপেন্ড বা ইন্টার্নশিপ ছিল না। এটা আসলে একজন প্রার্থীর কাঁধে সমস্ত ঝুঁকি চাপিয়ে দিয়ে কোম্পানির নিজে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থাকার এক নোংরা চাল।”
মজার বিষয় হল, প্রণব যখন ওই কোম্পানির অফিসে যান, তিনি লক্ষ্য করেন পুরো সংস্থায় মাত্র দুজন মানুষ রয়েছেন— একজন সিইও এবং অন্যজন ওই এইচআর। অথচ এই দুজনেই মিলে শত শত চাকরিপ্রার্থীকে ওঁদের অফিসে ওয়াক-ইন ড্রাইভের নামে ডেকে এনেছিলেন।প্রণব অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কোনও ছোট স্টার্ট-আপ বা ছোট কোম্পানিকে ছোট করছেন না, কারণ প্রতিটি সফল সংস্থাই একদিন ছোট থেকে শুরু হয়। তবে ওঁর আপত্তি কোম্পানির সততা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে। তিনি বলেন, “আপনি যদি লোক নিয়োগ করতেই চান, তবে অন্তত তাঁদের সময় এবং পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা জানান। শত শত প্রার্থীকে ডেকে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে মাসের পর মাস বিনা পয়সায় কাজ করতে বলাটা চরম অন্যায়।”
চাকরির বাজারের এই কঠিন সময়ে প্রণব সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের নিজেদের দক্ষতার মূল্য বোঝার এবং আত্মসম্মান বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। পোস্টের শেষে তিনি এক শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেন, “চাকরি পাওয়ার তীব্র হতাশা বা বাধ্যবাধকতাকে ঢাল বানিয়ে এই ধরনের অবৈতনিক ফুল-টাইম কাজকে দয়া করে ‘সুযোগ’ হিসেবে মেনে নেবেন না। চাকুরিবাজার এখন সত্যিই কঠিন, কিন্তু এই শোষণ যেন কখনওই সমাজের ‘নিউ নর্মাল’ বা স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে না দাঁড়ায়।”















