টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে বিপদ, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বা দিনের ব্যস্ততার মাঝে অনেকেরই একটা অভ্যাস রয়েছে টয়লেটে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ফোন। কয়েক মিনিটের জন্য শুরু হলেও ফোনে স্ক্রল করতে করতে সেই সময় কখন যে ২০-২৫ মিনিটে পৌঁছে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু এই ছোট্ট অভ্যাসই শরীরের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সময় টয়লেটে কাটাচ্ছেন। এর ফলে বাড়তে পারে হেমোরয়েড (পাইলস)-এর ঝুঁকি এবং দুর্বল হতে পারে পেলভিক ফ্লোরের পেশি।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সাধারণত টয়লেটে ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি সময় না কাটানোই ভাল। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের অংশের রক্তনালির ওপর চাপ পড়ে। টয়লেট সিটের আকৃতির কারণে মলদ্বার ও আশপাশের রক্তনালিতে চাপ তৈরি হয়, ফলে সেখানে রক্ত জমে গিয়ে শিরা ফুলে যেতে পারে। এর থেকেই পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হল—ফোন দেখতে দেখতে অনেকেই সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পাশাপাশি অনেকে মলত্যাগের জন্য অতিরিক্ত চাপ দেন। এই অভ্যাস মলদ্বার ও পেলভিক পেশির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে এর ফলে রেকটাল প্রোল্যাপ্সের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটকে বিনোদনের জায়গা না বানানোই ভাল। কারণ টয়লেটে বসার সময় যত বেশি বাড়বে, শরীরের ওপর চাপও তত বাড়বে।
যদি ১০ মিনিটের মধ্যেও মলত্যাগ না হয়, তাহলে জোর না করে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ভাল। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ডাল, ওটস ইত্যাদি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে অসুবিধা, রক্তপাত বা অস্বাভাবিক বেশি সময় কাটানোর প্রয়োজন হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কখনও কখনও এগুলি অন্ত্রের অন্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস পরিবর্তন ভবিষ্যতে শরীরকে অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।















