কোনও মানুষ যদি হঠাৎ করেই আগের মতো না থাকেন, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, অকারণে রেগে যান বা পরিবারের সদস্যদের চিনতে অসুবিধা হয়, তাহলে বিষয়টি একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

অনেকেই ভাবেন, এসব হয়তো মানসিক কিংনা কাজের চাপ বা বয়সের কারণে হচ্ছে। কিন্তু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ব্যক্তিত্ব বা আচরণে বড় পরিবর্তন অনেক সময় মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের আচরণ, আবেগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ। এই অংশগুলির কোনওটিতে সমস্যা দেখা দিলে মানুষের স্বভাবও বদলে যেতে পারে। স্ট্রোক, ব্রেন টিউমার, ডিমেনশিয়া, মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা কিছু স্নায়বিক রোগের কারণে এমনটা হতে পারে।

কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে? হঠাৎ খুব রাগী হয়ে যাওয়া, ছোটখাটো বিষয়ে অতিরিক্ত বিরক্ত হওয়া, অকারণে ভয় পাওয়া বা সকলকে সন্দেহ করা, একেবারে চুপচাপ হয়ে যাওয়া, পরিবারের সঙ্গে মিশতে না চাওয়া, নিজের পছন্দের কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া বা একই কথা বারবার বলা-এগুলো অস্বাভাবিক আচরণের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় রোগী এমন সিদ্ধান্তও নিতে পারেন, যা তাঁর স্বাভাবিক স্বভাবের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

কখন সবচেয়ে বেশি সতর্ক হবেন? যদি আচরণের পরিবর্তনের সঙ্গে হঠাৎ কথা জড়িয়ে যায়, মুখ বেঁকে যায়, শরীরের এক পাশ অবশ লাগে, হাত-পায়ে দুর্বলতা আসে, তীব্র মাথাব্যথা হয়, খিঁচুনি শুরু হয় বা রোগী বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এগুলো স্ট্রোকের মতো জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

সব আচরণগত পরিবর্তনের পিছনে মস্তিষ্কের রোগ থাকে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, দীর্ঘদিন ঘুম কম হওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান বা মাদকাসক্তির কারণেও এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিবারের কোনও সদস্যের আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। পরিবর্তন কখন থেকে শুরু হয়েছে, কী কী সমস্যা হচ্ছে, তা খেয়াল রাখুন এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে ব্রেন স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ জানা যায়।

মনে রাখবেন, আচরণ বা ব্যক্তিত্বে আকস্মিক পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সময়মতো কারণ জানা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে অনেক গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।