কিউআর কোড স্ক্যান করে বা একটিমাত্র মেসেজেই থানায় অভিযোগ জানাতে পারবেন৷ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সামনে ভিড়। হঠাৎ এক বয়স্ক বাঙালি তীর্থযাত্রীর পকেট থেকে উবে গেল ফোনটি। কোথায় থানা, কোন ভাষায় কথা বলবেন, কোন ফর্ম ভরবেন বুঝতে পারছেন না৷ এমন সময় পোস্টারে আঁকা ছোট্ট কালো-সাদা কিউআর কোড স্ক্যান করে, কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে কেবল ‘হাই’ পাঠিয়ে দিলেই শুরু হবে সাহায্য।
গত ২ এপ্রিল পুরী পুলিশ চালু করেছে ‘পুরী পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামে এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট। ২৪x৭ সক্রিয় এই পরিষেবায় ফোন নম্বর +৯১ ৮৭৬৩১৯৯৪০০-তে ‘হাই’ মেসেজ পাঠালেই খুলে যায় বিকল্পের তালিকা — ই-অভিযোগ দাখিল, হারানো মোবাইলের রিপোর্ট, নিকটতম থানার সন্ধান, পার্কিং সংক্রান্ত তথ্য, ট্যুরিস্ট সহায়তা ও মতামত জানানো — সবই এক ক্লিকে পাওয়া যায়। পরিষেবাটির নেপথ্যে রয়েছেন পুরীর এসপি এবং সেন্ট্রাল রেঞ্জ আইজি।
ওড়িশায় বহু বছর ধরে চালু ‘আমা পুলিশ সমিতি’ মডেল, যেখানে প্রতিটি বিট-অফিসারের সঙ্গে গ্রাম-সমিতির ২০-২৫ জন সদস্য মাসে একবার বসে কথা বলেন। ১৯৬৭ সালের গ্রাম রক্ষী আইনে সক্রিয় ১৮ হাজারেরও বেশি ‘গ্রাম রক্ষী’ রাজ্যজুড়ে পুলিশের চোখ-কান। এই সবেরই ধারাবাহিকতায় হোয়াটসঅ্যাপ-চ্যাটবট আজকের প্রজন্মের উপযোগী এক নতুন সংযোজন।
পুরী মানে বাঙালির অনিবার্য তীর্থ — রথযাত্রায় লক্ষ লক্ষ বাঙালি পাড়ি দেন। তাঁদের একটি বড় অংশই বয়স্ক, সাধারণ স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপই তাঁদের সবচেয়ে চেনা মুখ। তাই নতুন অ্যাপ ডাউনলোড নয়, অ্যাকাউন্ট খোলার ঝামেলা নয় — শুধু একটি ‘হাই’। ওড়িশা পুলিশের ডিজি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া একে বলছেন পুলিশ-জনতার মধ্যে ‘বিশ্বাসের সেতু’।















