সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল মেটা। সংস্থাটি এমন একটি নতুন AI-নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে কোনও কিশোর বা কিশোরী যদি Meta AI চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির (Self-harm) ইঙ্গিত দেয়, তাহলে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিভাবকদের সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
এর পাশাপাশি প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার পরামর্শও দেওয়া হবে। মেটার দাবি, বর্তমানে অনেক কিশোর-কিশোরী ব্যক্তিগত সমস্যা, মানসিক চাপ বা একাকীত্বের কথা AI চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে কেউ যদি আত্মহত্যা বা নিজেকে আঘাত করার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে কথা বলে, তাহলে শুধুমাত্র AI-এর উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট নয়। তাই অফলাইনে পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য পাওয়াও জরুরি।
কীভাবে কাজ করবে এই ফিচার?
মেটার AI যদি বুঝতে পারে যে কোনও কিশোর আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির ঝুঁকিতে থাকতে পারে, তাহলে প্রথমেই সে সহানুভূতিশীল ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাবে। পাশাপাশি জরুরি হেল্পলাইন বা মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেবে এবং কোনও বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক—যেমন বাবা-মা, অভিভাবক বা কাউন্সেলরের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে উৎসাহিত করবে।
এরপর প্রয়োজনে বিষয়টি মানব পর্যায়ে (ম্যানুয়াল রিভিউ) যাচাই করা হবে। ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুতর বলে মনে হলে Instagram-এর পেরেন্টাল সুপারভিশন (Parental Supervision) ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে জরুরি পরিষেবার সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
প্রাথমিকভাবে এই ফিচার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় চালু হয়েছে। মেটা জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
সাম্প্রতিক সময়ে AI চ্যাটবট ব্যবহার করে মানসিক স্বাস্থ্য, একাকীত্ব বা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা বলার প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে AI প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। সেই কারণেই কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে নতুন এই ব্যবস্থা এনেছে মেটা। সংস্থার দাবি, ৭৫ জনেরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টার সহযোগিতায় এই নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা হয়েছে।
মেটা আরও জানিয়েছে, শুধু এই সতর্কবার্তাই নয়, কিশোরদের জন্য কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে কঠোর AI নির্দেশিকা এবং অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থাও ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—AI যেন শুধুমাত্র কথোপকথনের সঙ্গী না হয়ে, প্রয়োজনে বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওয়ার পথও দেখায়।
















