৫১ বছর বয়সেও করিশ্মা কাপুরের ত্বকের উজ্জ্বলতা নজরকাড়া। তবে তাঁর এই সৌন্দর্যের রহস্য কোনও দশ ধাপের স্কিন কেয়ার রুটিন বা দামি সিরামের জাদু নয়৷ অভিনেত্রীর ভরসা সেই পুরনো দেশি টোটকা, যা তিনি দিদা-ঠাকুমাদের কাছ থেকে পেয়েছেন।
করিশ্মা জানান, তাঁর সৌন্দর্যের দর্শন জটিল স্কিন কেয়ারের বদলে সরল জীবনযাপন। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে আমি খুব বেশি কিছু করি না।” ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর দিদা ঠাকুমাকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা করতে দেখেছেন।
করিশ্মার কথায়, “ঘি খাওয়া, মুখে ঘি লাগানো বা মালাই ব্যবহার করা, এসব আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে বড় হয়েছি।” করিশ্মা জানান, তিনি এবং তাঁর বোন করিনা কাপুর এখনও ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের পরিচর্যা করেন৷
অভিনেত্রীর কথায়, "ভাত হোক বা রুটি, ঘি শরীরের ভিতরে গিয়ে একটা আলাদা উজ্জ্বলতা আনে বলে আমি মনে করি।” যদিও এখন বিশ্বজুড়ে ‘ঘি কফি’ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়েছে, করিশ্মা জানিয়েছেন তিনি সেই ট্রেন্ড অনুসরণ করেন না।
ত্বকের জন্য ঘি কি সত্যিই উপকারী?
ঘিয়ের মধ্যে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের উপর একটি স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং জল বেরিয়ে যাওয়া কমায়। শুষ্ক ত্বক, ফাটা ঠোঁট বা কনুই, হাঁটু, গোড়ালির মতো রুক্ষ জায়গায় অল্প ঘি ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে ত্বক নরম হতে পারে।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘি কোনও জাদুকরী উপাদান নয়৷ ব্রণ, দাগ, বয়সের ছাপ বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে ঘি কাজ করে না। তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে ঘি লাগালে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ আরও জানান, বেশি ঘি খেলেই ত্বক চকচকে হয়ে যাবে—এই ধারণা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় এবং ঘি সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু বেশি ঘি খেলে হঠাৎ ত্বকের পরিবর্তন হবে না।
সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জল খাওয়া, পুষ্টিকর খাবার, ভাল ঘুম, হরমোনের ভারসাম্য, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়া প্রয়োজন৷















