আজকাল অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যা বহু মানুষকেই ভোগাচ্ছে। চারপাশে তাকালেই দেখা যায়, অনেকেরই পেট বেড়ে গিয়েছে। কেউ কেউ রোগা হলেও পেট বেরিয়ে থাকে। এতে শুধু ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব পড়ে না, বাড়ে নানা রোগের ঝুঁকিও। ভুল খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপের কারণে দ্রুত ওজন বাড়ে। তবে সঠিক ডায়েট মেনে চললে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ওজন কমাতে সব সময় দামি সাপ্লিমেন্ট বা কঠোর ডায়েট প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। বরং দৈনন্দিন খাবারে কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলেই ভাল ফল পাওয়া যায়। এই খাবারগুলো মেটাবলিজম বাড়ায়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।
নয়ডার ডায়েট মন্ত্রা ক্লিনিকের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান কামিনী সিনহা জানিয়েছেন, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ওটসকে অন্যতম সেরা খাবার বলা যায়। ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগতে দেয় না। সকালে নাশতায় ওটস খেলে সারাদিন অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যায়। এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দই ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। দইয়ে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং মেটাবলিজম সক্রিয় রাখে। নিয়মিত দই খেলে পেটের ফোলাভাব কমে এবং শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা হ্রাস পায়। ওজন কমানোর সময় সাধারণ, চিনি ছাড়া দই খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী, কারণ এতে ক্যালোরি কম কিন্তু পুষ্টিগুণ বেশি।
সবুজ শাকসবজি খেলে ওজন কমে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। পালং শাক, লাউ, ঝিঙে, ব্রোকলি ও শসার মতো সবজিতে ক্যালোরি কম হলেও ফাইবার ও পানির পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো পেট ভরা রাখে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। নিয়মিত সবুজ শাকসবজি খেলে ধীরে ধীরে পেটের চর্বি কমতে শুরু করে এবং হজমতন্ত্রও শক্তিশালী হয়।
অনেকে অবাক হলেও সত্যি, ডিম ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডিম প্রোটিনের চমৎকার উৎস এবং ওজন কমানোর জন্য বেশ কার্যকর। জলখাবারে ডিম খেলে সারাদিন খিদে কম লাগে এবং শরীর ফ্যাট জমানোর বদলে শক্তির জন্য ক্যালোরি ভালভাবে ব্যবহার করে। বিশেষ করে সেদ্ধ ডিম বা অল্প তেলে রান্না করা ডিম ওজন কমাতে বেশি সহায়ক।
ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পেটের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। আপেল, পেঁপে, নাশপাতি ও বিভিন্ন বেরি জাতীয় ফল ফাইবারে ভরপুর এবং মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও কমায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে শক্তি জোগায়। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ফল ডায়েটে রাখলে ওজন কমানোর গতি বাড়ে এবং শরীরও থাকে সুস্থ ও সতেজ।
