ঘাম হওয়া আমাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঘাম বের হয়, আর সেই ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সময় শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। তাই গরমের দিনে, ব্যায়াম করার সময় বা বেশি দৌড়ঝাঁপ করলে ঘাম হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় ঘামের ধরনই জানিয়ে দেয় শরীরের ভেতরে অন্য কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে কিনা। তাই হঠাৎ করে ঘাম বেশি হওয়া, রাতে ঘামে ভিজে যাওয়া বা ঘামের গন্ধে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
* অকারণে অতিরিক্ত ঘাম: গরম না থাকলেও বা কোনও শারীরিক পরিশ্রম না করলেও যদি খুব বেশি ঘাম হয়, তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি হাইপারহাইড্রোসিস নামে পরিচিত একটি সমস্যার কারণে হতে পারে। আবার ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, উদ্বেগ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
* রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম: এসি চালিয়েও বা ঘর ঠান্ডা থাকলেও যদি রাতে ঘামে জামাকাপড় বা বিছানা ভিজে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদি বারবার এমন হয়, তবে অবশ্যই পরীক্ষা করানো দরকার।
* হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম: হঠাৎ শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়া অনেক সময় জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা বমিভাব থাকে, তাহলে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
* ঘামের গন্ধ বদলে যাওয়া: ঘাম নিজে সাধারণত গন্ধহীন। কিন্তু ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গন্ধ তৈরি হয়। যদি হঠাৎ ঘামের গন্ধ খুব তীব্র বা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের পরিবর্তন, কিছু ওষুধ বা বিরল ক্ষেত্রে শরীরের কোনও অসুস্থতা এর কারণ হতে পারে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
* একেবারেই ঘাম না হওয়া: অনেকেই ভাবেন ঘাম না হওয়া ভাল। কিন্তু সেটিও বিপজ্জনক হতে পারে। শরীর ঘামতে না পারলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্নায়ুর সমস্যা, ত্বকের কিছু রোগ বা কিছু ওষুধের কারণে এমন হতে পারে।
* মানসিক চাপেই বেশি ঘাম: অনেকের টেনশন, ভয় বা উদ্বেগ হলেই হাতের তালু, পায়ের পাতা বা বগলে অতিরিক্ত ঘাম হয়। মাঝে মাঝে এমন হওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি এটি দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ জানা উচিত।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন? কোনও কারণ ছাড়াই নিয়মিত অতিরিক্ত ঘাম হলে, রাতে বারবার ঘামে ভিজে গেলে, ঠান্ডা ঘামের সঙ্গে বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে, ঘামের গন্ধ বা পরিমাণে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এলে, শরীর একেবারেই ঘাম না হলে, ঘামের সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা দুর্বলতা থাকলে।
ঘাম শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সব ধরনের ঘামকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। শরীর অনেক সময় ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমেই বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
















