গ্রীষ্মকালে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় এসি-ঘরে কাটান। কিন্তু এই অভ্যাসে নাকি হাড় দুর্বল হয়ে যায় বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বেড়ে যায়, দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের মধ্যে এই বিশ্বাস বেশি দেখা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি সরাসরি হাড়ের কোনও ক্ষতি করে না। অর্থাৎ এসির ঠান্ডা বাতাস হাড়কে দুর্বল করে দেয় বা নতুন করে আর্থ্রাইটিস তৈরি করে৷ এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা পরিবেশে শরীরের কিছু সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে।


যাঁদের আগে থেকেই হাঁটু, কোমর, ঘাড় বা কাঁধের ব্যথা রয়েছে, তাঁরা এসি-ঘরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে অস্বস্তি বেশি টের পেতে পারেন। ঠান্ডা পরিবেশে পেশি কিছুটা শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা কমে যেতে পারে। ফলে ব্যথা বা জড়তা বেড়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এসি আর্থ্রাইটিসের রোগকে আরও খারাপ করে দিচ্ছে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এসি-ঘরে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে অনেকেই খুব কম নড়াচড়া করেন। অফিসে বা বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকলে পেশি ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এর ফলে ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটুতে অস্বস্তি এবং শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মানুষ এই সমস্যার জন্য এসিকে দায়ী করলেও আসল কারণ হল দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা।


হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ভিটামিন ডি-এরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যারা সারাদিন এসি-ঘরে থাকেন, তারা অনেক সময় রোদে কম বের হন। ফলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হতে পারে। ভিটামিন ডি কমে গেলে ক্যালসিয়াম ঠিকমতো শোষিত হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে হাড় দুর্বল হতে পারে। তবে এর জন্য এসি নয়, বরং রোদে কম যাওয়াই দায়ী।


তাই এসি ব্যবহার করলেও কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫-১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং প্রতিদিন কিছু সময় সকালের রোদে থাকার চেষ্টা করুন। এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কম না রেখে ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখলে শরীরও আরাম পাবে।


সবমিলিয়ে বলা যায়, এসি নিজে হাড় দুর্বল করে না বা আর্থ্রাইটিস সৃষ্টি করে না। তবে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং রোদে না যাওয়ার অভ্যাস হাড় ও জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এসি ব্যবহার করুন, কিন্তু সক্রিয় জীবনযাপনও বজায় রাখুন।