আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগর পৌরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে। রাতে বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া পুরুলিয়া থেকে গত মে মাসে দায়ের হওয়ার তোলা আদায়, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে দেবরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমিশনারেটের তরফে জানান হয়েছে জানিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলাটি জোর করে জমি কেনাবেচা, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভয় দেখান, সম্পত্তির কম মূল্যায়ন, সম্পদ গোপন করা, 'ডি.সি. গ্লোবাল'-এর মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং সহ-অভিযুক্ত অদিতি মুন্সির নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদানের মতো সংগঠিত অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। 

পুলিশের আরও দাবি, তদন্ত চলাকালীন উল্লেখযোগ্য মৌখিক ও নথিপত্র-ভিত্তিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এতে সংগঠিত অপরাধের বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট ধৃত দেবরাজের  আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে।

ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারাসতের সিজেএম আদালতে পরেশ করা হবে। দেবরাজকে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে, আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করা, অপরাধের প্রমাণবাহী নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করা, ষড়যন্ত্রে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

দিনকয়েক আগেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তাঁর স্বামী তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালত জানায়, অদিতির চার মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে। তবে, তাঁকে একাধিক শর্তও দেয় আদালত। যেমন, এখন তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না তিনি। পাসপোর্টও জমা রাখতে হবে। কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করতে পারবেন না। আর আপাতত বাগুইআটি থানা এলাকায় ঢুকতে পারবেন না অদিতি মুন্সি। 

আদালতে মেলেনি রক্ষাকবচ। ফলে দেওয়াল লিখন পড়তে পেরেছিলেন দেবরাজ। বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর পরিণতি। মনে করা হচ্ছে, পুলিশের নাগাল এড়াতে পুরুলিয়া দিয়ে ঝাড়খণ্ডে ঢুকে পড়তে মরিয়া ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি ঘনিষ্ঠ বিধাননগর পুরনিগমের এই মেয়র পারিষদ।