আজকাল ওয়েবডেস্ক: কালীঘাটে টানটান উত্তেজনা। প্রতিবাদ মিছিলের পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর 'বিশ্বস্ত' নিরাপত্তারক্ষীদের সরানো হল। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই ভয়ঙ্কর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতাকে দিলেন পরামর্শও।
আজ সকালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তা রক্ষী প্রত্যাহার প্রসঙ্গে দিলীপ আরও বলেন, 'আমাকে সরকার একসময় দু'জন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছিল, আমি তো চয়েস করিনি। সরকার দিয়েছিল, ওনারা থাকতেন। তাহলে উনি কেন চয়েস করবেন? উনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন উনি এগুলো সঞ্চালনা করেছেন কাকে কোথায় পাঠাবেন! ছ-মাস অন্তর চেঞ্জ করে দিতেন। ওনার থানা কালীঘাটে কোনওদিন ওসিবদল হয়নি। এয়ারপোর্ট থানায় কোনওদিন ওসি বদল হয়নি। তো এখন যিনি সরকারের মুখে আছেন, তাঁর অধিকার আছে এটা দেখার। সেটা মুখ্যমন্ত্রী করছেন তাহলে উনি মানবেন না কেন? উনি সংবিধান মানবেন না সরকার মানবেন না। এই দেশে আছেন কেন? চলে যান বাংলাদেশে।'
মমতা ব্যানার্জির প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, 'উনি মিছিল করুন। সময় আছে তো। মিছিল করে নিজেকে জীবিত রাখুন। এই হকারদের পয়সা নিয়ে বসিয়েছে ওনার লোকেরা। সিপিএমও চেঁচাচ্ছে। তারাও বসিয়েছে হকারদের পয়সা নিয়ে। রাস্তাঘাট ব্যবসা করার জন্য নয়। এতগুলো হকার কর্নার তৈরি করার পর আবার এই হকাররা আসে কী করে? সেই জন্য হকারদের ও দায়িত্ব যাদেরকে টাকা দিয়েছেন, যারা বসিয়েছে, তাদেরকে গিয়ে বলুন! সরকার দায়িত্ব নিয়েছে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার, তাদের জীবন সচল রাখার সেই দায়িত্ব সরকার পালন করবে।'
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসও-দের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ মমতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে পিএসও-দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনই জানিয়েছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁর দাবি, যেসব পিএসও বিগত ২০ বছর ধরে তৃণমূল নেত্রীর কাছে ছিলেন তাঁদের সরানো হয়েছে।
প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'আপনারা উদয়ন গুহর যে সমস্ত বাইট দেখাতেন। উনি এতদিন বাইরে ছিলেন কী করে? সমাজবিরোধীদের মতো কথাবার্তা! আগেই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল। ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আজকের নয়। ওনার বাবা যখন বেঁচে ছিলেন সেই সময় সার কেলেঙ্কারি! সব রকম গুণ ছিল। বাকি লোকজন দেখেছে। অভিযোগ করেছে। সবাই দেখেছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।'
পাশাপাশি সুশান্ত ঘোষ গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, 'এ তো সবই এক বিষয়ে একই ব্যাপার। এরা প্রতিদিন সকালে (কাউন্সিলররা) লোকজনকে ফোন করতো, চমকাতো! টাকা চাইতো। এতদিন ভয়ে লোকজন কথা বলতে পারেনি। এখন অভিযোগ করছে। লোকের ফ্ল্যাট নিয়ে নিয়েছে, জমি নিয়ে নিয়েছে। এতদিন কিছু বলতে পারেনি। ক্লাব দখল করে নিয়েছে, ভেরী দখল করে নিয়েছে, এগুলো সব তো আমরা জানি। এখন লোকজন ভরসা পেয়েছে অভিযোগ করছে।'















