আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বর্ষার আগে নিকাশী ব্যবস্থার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতার কয়েকটি খালি পরিদর্শন করেন পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শহরে প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং বর্ষার মরশুমে জলযন্ত্রণা থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে এর পর বড়সড় পদক্ষেপের করে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে বাড়ির পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা না করলে, পুরকর্মীরা প্রতিদিন সকালে সেই বাড়ি থেকে আর আবর্জনা সংগ্রহ করবেন না।

 

কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যাগগুলি নালার মুখ এবং ম্যানহোলগুলি জ্যাম করে দেয়। ফলে বৃষ্টির জল নামতে দেরি হয়। এমনকি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের মোটরে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে গিয়ে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাই মাসেই কলকাতা-সহ সারা রাজ্যে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা আলাদা। মুদির দোকান, দুধের বুথ থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ফল ও সবজি বাজার— সর্বত্রই দেদার বিকোচ্ছে ১২০ মাইক্রনের থেকে কম পুরু এই নিষিদ্ধ প্লাস্টিক।

 

এ প্রসঙ্গে পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, "আমরা আগামী তিন মাসের মধ্যে বাজারগুলিতে কাপড়ের ব্যাগ বিক্রির ভেন্ডিং মেশিন বসাব। এই মেশিনগুলি চালু হয়ে যাওয়ার পর কেউ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করলে কড়া জরিমানা করা হবে।"

 

পাশাপাশির, শহরবাসীর কাছে আবেদন করে বলেছেন, "কেউ যেন যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলেন। কারণ তা ড্রেন আটকে জল জমার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিজ্ঞ পরিবেশবিদদের মতে, এই ১২০ মাইক্রনের কম প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করা যায় না। ফলে এগুলি মাটিতে ও জলে মিশে ভয়ঙ্কর 'মাইক্রোপ্লাস্টিক' ও 'ন্যানোপ্লাস্টিক' তৈরি করে। যা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু)।

 

শহরের আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে উন্নত করতে তাই কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। বলেছেন, "এমন অনেক শহর আছে যেখানে আবর্জনাকে ছ'টি ভাগে ভাগ করা হয়। আমরা কলকাতার মানুষকে মাত্র দু'টি ভাগে— ভেজা (পচনশীল) এবং শুকনো (অপচনশীল) বর্জ্য আলাদা করতে বলছি।"

 

আগামী সাত দিনের মধ্যে এই নিয়ম মানা না হলে বাড়ি থেকে আবর্জনা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই এই নিয়ম চালু করলেও, বিগত কয়েক মাসে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কম্প্যাক্টর স্টেশন থেকে শুরু করে সকালের আবর্জনা তোলার গাড়ি— সব জায়গাতেই শুকনো ও ভেজা বর্জ্য একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছিল। এবার সেই শিথিলতা বন্ধ করতে কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে নতুন সরকার।