আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসও-দের সরিয়ে দেওয়া হল। বুধবার রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ মমতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে পিএসও-দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনই জানিয়েছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁর দাবি, যেসব পিএসও বিগত ২০ বছর ধরে তৃণমূল নেত্রীর কাছে ছিলেন তাঁদের সরানো হয়েছে।
এই ঘটনার সময় মমতা ব্যানার্জি তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে রয়েছেন বলেই ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন ডেরেক ও'ব্রায়েন।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ভিডিও বার্তায় জানান, তৃণমূল নেত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে বর্তমানে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ঘটনায় আতঙ্কিত ডেরেক জানিয়েছেন, মমতার কালীঘাটের বাড়ির প্রবেশপথ আটকে রাখার জন্য তিনি তাঁর গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।
সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এক্স বার্তায় জানান, 'এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন দিদির দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কর্মীদের হঠাৎ প্রত্যাহার করা হল এবং কেন গভীর রাতে তাঁকে কোনও নিরাপত্তা ছাড়াই ফেলে রাখা হল? একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। বাংলায় প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির এক অবিশ্বাস্য খেলা চলছে।'
তৃণমূলের আরেক রাজ্য়সভার সাংসদ সাকেত গোখলে এক্স বার্তায় লিখেছেন, 'অমিত শাহের চরম হীন প্রতিহিংসাপরায়ণতা। টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হঠাৎ করেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কারণ? আজ তিনি রাস্তায় নেমেছিলেন এবং বিজেপিকে আতঙ্কিত করে তুলেছিলেন। একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার মতো এতটা নীচে এই সরকার কীভাবে নামতে পারে?'
মমতা ব্যানার্জির বাড়ি কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই গোলিতে ঢোকার মুখে সবসময় ব্যারিকেড, নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া নজরদারি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ, ভিভিআইপি চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করাই ছিল নিত্যদিনের বিষয়। তবে, প্রাক্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের তরফে সেখান থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বর্তমানে 'জেড প্লাস' নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভবিষ্যতেও তা বহাল থাকবে বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
'জেড-প্লাস' নিরাপত্তা
'জেড-প্লাস' নিরাপত্তা হল ভারতের কোনও ভিআইপি বা ভিভিআইপি ব্যক্তিকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা। চরম হুমকির মুখে থাকা শীর্ষ রাজনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
'জেড-প্লাস' নিরাপত্তার মূল বৈশিষ্ট্য
কর্মী সংখ্যা: ৫৫ জনের একটি দল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে, যার মধ্যে ১০ জনের বেশি এনএসজি কমান্ডো এবং বাকিরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য।
প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র: কমান্ডোরা মার্শাল আর্ট ও বিনা অস্ত্রে লড়াইয়ে অত্যন্ত দক্ষ হন এবং তাদের কাছে আধুনিক এমপি-৫ বন্দুক ও উন্নত যোগাযোগের যন্ত্র থাকে।
স্তরবিন্যাস: এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা স্তর, যা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) -র ঠিক পরেই।















